প্রয়োজনে দুই দেশের প্রধানকে জানাব, বিপিএলের পারিশ্রমিক ইস্যুতে আফ্রিদি

পারিশ্রমিক না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ শহীদ আফ্রিদি।

এবারের বিপিএলে খেলার চেয়ে ধুলাই উড়েছে বেশি। বিশেষ করে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ইস্যুতে ব্যাপক শোরগোল হয়েছে। সমস্যার সমাধান করতে আইনি সহায়তায়ও নিতে হয়েছে। যদিও গুঞ্জন আছে এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি।

বলা যায়, বিতর্কের দিক থেকে আগের সব বিপিএলকেই ছাড়িয়ে গেছে।

ঘটনাবহুল এবারের বিপিএলে চিটাগাং কিংসের ‘মেন্টর’ হিসেবে ছিলেন শহীদ আফ্রিদি। টুর্নামেন্টে কাজ চুক্তির পুরো টাকা পাননি বলে জানিয়েছেন তিনি। তাই দলটির মালিক সামির কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিসিবির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

সমাধান না হলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে বিষয়টি অবগত করার কথা জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার।

এখন পর্যন্ত চুক্তি অনুযায়ী ১৯ হাজার ডলার পেয়েছেন আফ্রিদি। পারিশ্রমিকের বিষয়ে বাংলাদেশের এক গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘‘আমার সঙ্গে চুক্তি ছিল ১ লাখ ডলারের। কথা ছিল, বাংলাদেশে পা রাখার পর ৫০ হাজার ডলার দেওয়া হবে, টুর্নামেন্ট চলার সময় বাকি ৫০ হাজার।

কিন্তু আমাকে মোটে ১৯ হাজার ডলার দেওয়া হয়েছে। ‘কালকে দেব’, ‘দুই দিন পর দেব’- এসব বলে বলে বারবার ঘোরানো হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী সব দায়িত্ব আমি পালন করেছি। টাকা দেওয়া হয়নি। সামিরের আচরণে হতবাক হয়ে গেছি।

এমন কিছু আশা করিনি।”

বেশ কবার তারিখ নিয়েও টাকা পরিশোধ না করায় বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদকে লিখিত চিঠি দিয়েছেন আফ্রিদি। পাকিস্তানের কিংবদন্তি বলেছেন, ‘টুর্নামেন্টের মাঝপথে আমি একটা কাজে দেশে ফিরে আসি। সামিরের সঙ্গে কথা ছিল, ১৯ জানুয়ারি ফিরে যাব বাংলাদেশে। কিন্তু বারবার যোগাযোগ করার পরও তারা আর টিকিট পাঠাননি। এখন তো সামিরের সঙ্গে যোগাযোগের অনেক চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাচ্ছি না। দুই-তিন দিন আগে এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদকে লিখিত জানিয়েছি। প্রয়োজন হলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী আর বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকেও লিখব।’

বিপিএল শেষ হয়েছে প্রায় এক মাস হচ্ছে। কিন্তু এত দিন আফ্রিদি বিষয়টি প্রকাশ করেননি বাংলাদেশ ও বিপিএলের ভাবমূর্তির কথা চিন্তা করে। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ আমার হৃদয়ে আলাদা জায়গা নিয়ে আছে। বাংলাদেশের মানুষদের আমি ভালেবাসি। সেখানে গিয়ে সব সময় প্রচুর সমাদর ও ভালোবাসা পেয়েছি। আমি চাইনি বিপিএলের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক। পারিশ্রমিক নিয়ে সমস্যা যেকোনো লিগের মৌলিক ভিত্তিই ভেঙে দিতে পারে। একটি দেশের জন্যও এটি ভালো ব্যাপার নয়। বাংলাদেশ ও বিপিএলের কথা ভেবেই টুর্নামেন্ট চলার সময় কিছু বলিনি।’

বিপিএল চলাকালীন ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না দেওয়ার অভিযোগ ছিল চিটাগাংয়ের বিরুদ্ধেও। তবে সব দলকেই ছাড়িয়ে গিয়েছিল দুর্বার রাজশাহী। টাকা না পাওয়ায় এক ম্যাচ তো বিদেশিদের ছাড়াই খেলতে হয়েছে দলটিকে। যা বিপিএলের ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি।

LEAVE A REPLY