প্রবসিমরণ সিং। ছবি : ক্রিকইনফো
জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন সুরজিৎ সিংহ। তবু আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসের ম্যাচ দেখা থামিয়ে দেন না তিনি। শত কষ্টের পরও ঠিকই দলটির ম্যাচ শুরুর সময় বোকাবাক্সে চোখ রাখা চাই। তার পরিবারও ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা করে দেন।
তারাও জানেন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করলেও সব কষ্ট ভুলে যাবেন পাঞ্জাবের ম্যাচ দেখলেই।
সে জন্যই ম্যাচ দেখার সব ব্যবস্থাই করেন পরিবারের সদস্যরা। এতক্ষণ যে ক্রিকেটপ্রেমীর কথা বলা হচ্ছে তিনি সাধারণ কোনো দর্শক নন, পাঞ্জাবের ব্যাটার প্রবসিমরণ সিংহের বাবা। যিনি দীর্ঘদিন ধরেই কিডনির সমস্যায় ভুগছেন।
দুটি কিডনিই ক্রমে বিকল হওয়ায় সপ্তাহে তিন বার ডায়ালিসিস নিতে হয় তাকে।
জীবনের এমন কঠিন সময়েও খুশি থাকেন যখন তার পুত্র প্রবসিমরণ দারুণ পারফরম্যান্স করেন। পুত্রের ব্যাটের একটি রান তার মুখে অমূল্য হাসি এনে দেয়। যার কারণেই মৃত্যুশয্যায়ও ছেলের ব্যাটিং দেখার মুহূর্তটা মিস করতে চান না তিনি।
সর্বশেষ লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ৯১ রানে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন প্রবসিমরণ। দুর্দান্ত ইনিংসটির জন্য পরে ম্যাচসেরাও হয়েছেন এই ওপেনার।
ছেলের খেলা দেখে আনন্দ পেলেও শতরান করতে না পারায় কিছুটা হতাশ হয়েছেন সুরজিৎ। ডিভিও কলে তাই ছেলেকে নাকি বকেও দিয়েছেন তিনি। ছোট ভাইকে নিয়ে বলতে গিয়ে সতবিন্দরপাল সিং বলেছেন, ‘সোমবার সকালেও সিম্মু ভিডিও কল দিয়েছিল।সুরজিতের খবর নিতে। শতরানের কাছে এসেও কেন বাজে শটে আউট হয়েছেন তা নিয়ে ওকে বকে দেন আমার ছোট ভাই। পরে আমাকে গিয়ে থামাতে হয়।’
ছেলেকে টিভিতে দেখলেই ছোট ভাই দারুণ খুশি হন বলে জানান সতবিন্দরপাল। তিনি বলেছেন, ‘পাঞ্জাবের ম্যাচ হলেই তাকে বসার ঘরে নিয়ে এসে একসঙ্গে ম্যাচ দেখি। ক্যামেরায় সিম্মুকে দেখলেই ও হাসে। ভালো খেললে জোরে হাসে। সেই মুহূর্তে ভুলে যায় সে কত কষ্ট পাচ্ছে।
ছোট ভাইয়ের এমন দৃশ্য দেখতে ভালো লাগে না বলে জানান সতবিন্দরপাল। ডায়ালিসিসের সময় তাই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি, ‘প্রবসিমরণ ভালো খেললেই শুধু ভাইকে হাসতে দেখি। সপ্তাহে তিনবার ডায়ালিসিস নিতে হয় তাকে। সে যে কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দাদা হিসেবে এটা চোখে দেখা ভীষণ কষ্টের। তাই ডায়ালিসিসের সময় ডাক্তার বাসায় এলে আমি বাইরে চলে যাই। রোজ প্রার্থনা করি, যাতে ওর খারাপ কিছু না হয়।’
১১ ম্যাচ শেষে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে থাকা পাঞ্জাবের হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন প্রবসিমরণ। বাবার এমন কঠিন মুহূর্তে ভেঙে পড়েননি তিনি। যার প্রমাণ ১১ ম্যাচে ৪ ফিফটিতে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৩৭ রান। এবারের আইপিএলে ২৪ বছর বয়সী ব্যাটারের লড়াইটা শুধু প্রতিপক্ষের বোলারদের বিপক্ষেই নয়, বাবার মুখে হাসি ফোটানোরও।











































