ফরিদা পারভীন
লালন সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন অসুস্থ। এই দুঃসময়ে আর্থিক সহায়তার কথা উচ্চারণ করেননি তিনি। বরং হাত জোড় করে চেয়েছেন-সবাই যেন তার জন্য দোয়া করে- এমন কথা ফরিদা পারভীনের ছেলে বললেও স্বামী ও কিংবদন্তি বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিম বলছেন ভিন্ন কথা।
গাজী আবদুল হাকিম বলেন, ‘অনেক দিন ধরে তার (ফরিদা পারভীন) লিভারের রোগ।
ফুসফুসে পানি জমেছে, আবার ডায়াবেটিসের সমস্যাও আছে। অনেক সমস্যা। আইসিইউতে রাখা হয়েছিল, কিন্তু সেটা অনেক ব্যয়বহুল। প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকা খরচ।
চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে আমরা প্রায় নিঃস্ব। তাই আইসিইউ থেকে বের করে আনা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খুব দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।’
স্বামী নিঃস্ব জানালেও শিল্পীর ছেলে ইমাম জাফর বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা আমাদের মায়ের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে সক্ষম।
প্রয়োজন হলে তার নিজস্ব সঞ্চয় দিয়েই চিকিৎসা সম্ভব। তাই কেউ যেন ভেবে না বসেন, মা আর্থিক সংকটে আছেন।’
ইমাম জানান, ‘আম্মার কিডনির সমস্যাটা ২০১৯ সাল থেকেই চলছে। এখন ডায়ালাইসিস শুরুর পর শরীর আরো দুর্বল হয়ে গেছে। আমাদের সবাই—আমি, আমার ভাইবোন, তাদের জীবনসঙ্গীরা-নিজ হাতে আম্মার সেবা করছি।
এই সময়ে সরকার থেকেও জানতে চাওয়া হয়েছে, কোনো সহায়তা দরকার কি না। কিন্তু মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি তা নিতে চান না।’
এই শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে ইমাম জাফর সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন-গুজব নয়, দোয়া ছড়ান। তিনি আরো বলেন, ‘আমার মা যেন আবার গানে ফিরতে পারেন, আবার মঞ্চে দাঁড়িয়ে গেয়ে ওঠেন-এই প্রার্থনা করি। আপনারাও তার জন্য দোয়া করবেন।’
অন্যদিকে আর্থিক সংকটের কারণে তিন উপদেষ্টার দ্বারস্থ হয়েছেন গাজী আবদুল হাকিম। তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার প্রত্যেকেই ফরিদা পারভীনের গানের ভক্ত। আমি তাঁদের জানিয়েছি সমস্যা ও সংকটের কথা। তাঁরা বলেছেন, দেখবেন। কিন্তু দেখার সময় তো নেই, যা করার এখনই করতে হবে। বিদেশে নিতে হলেও এখনই নিতে হবে। বিনা চিকিৎসায় তাঁর মতো শিল্পী চলে গেলে দুর্নাম হবে দেশেরই।’










































