শোবিজের ভেতরে ও বাইরে তাদের বন্ধু যারা

আজ বন্ধু দিবস। বন্ধুত্বের আবেদন চিরকালীন। এই দিবস সামনে রেখে বিনোদনজগতের তারকারা বলেছেন সবচেয়ে প্রিয় দুই বন্ধুর কথা—একজন শোবিজের, অন্যজন শোবিজের বাইরের। শুনেছেন হৃদয় সাহা।

তৌসিফ মাহবুব, অভিনয়শিল্পী

শোবিজে আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু সাফা কবির। শোবিজে আমাদের শুরুটা একই টেলিফিল্ম দিয়ে। তখন থেকেই আমাদের বন্ধুত্ব, এক যুগ পেরিয়ে আমাদের বন্ধুত্ব আরো গাঢ় হয়েছে। এত এত সহকর্মীর ভিড়ে সাফা কবির আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু, তার অন্যতম কারণ আমাদের মানসিকতায় অনেক মিল।

 এ জন্য আমাদের শেয়ারিং খুব বেশি হয়, অন্যদের সঙ্গে এতটা হয় না। অভিনেত্রী হিসেবে সাফা যেমন নিজেকে গুছিয়েছে, তেমনি ব্যক্তিজীবনেও। এরই মধ্যে সে তার মাকে নিয়ে হজ করে এসেছে, এটা একটা বিরাট ব্যাপার। বন্ধু দিবস উপলক্ষে সাফাকে বলতে চাই, সারা জীবন যেন ও এমনই থাকে।

ও বন্ধু আমার
সহশিল্পী বন্ধু সাফা কবিরের সঙ্গে তৌসিফ

শোবিজের বাইরে আমার খুব ভালো বন্ধু আফজাল রহমান। দুই বছর হলো সে আমেরিকাপ্রবাসী। আফজাল আমার কলেজজীবনের বন্ধু, বলা যায় ক্রাইম পার্টনার। আমি আমার ছাত্রজীবনের সেরা সময়গুলো কাটিয়েছি ওর সঙ্গে। আমি যেমন আফজালের অনেক গোপন খবর জানি, তেমনি আফজালও জানে।

এখন দুজন দুই মহাদেশে, চাইলেও দেখা করা সম্ভব নয়। তবে তাকে সব সময় মিস করি, তার উদ্দেশে বলব, বন্ধু ভালো থেকো।

সোমনুর মনির কোনাল, কণ্ঠশিল্পী

শোবিজ বন্ধুর কথা বললে একজনের কথাই বলব—নওরীন শরীফ শার্লিন। আমরা দুজন দুই রিয়ালিটি শো থেকে এলেও গানের সুবাদে আমাদের পরিচয়, তারপর বন্ধুত্ব। সময় যত পেরিয়েছে, আমাদের বন্ধুত্ব তত গভীর হয়েছে। একজন আরেকজনকে বুঝতাম। নওরীন এখন কানাডায় থাকে। দুই বছর হলো সরাসরি দেখা হয় না। তবে আমরা প্রতিনিয়ত কথা বলি। আমার পছন্দের বিশেষ চা পাতা আছে, নওরীন যখন আমেরিকা ঘুরতে গিয়েছিল, সেই চা পাতা খুঁজে বের করে আমার জন্য বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। এটা অনেকের কাছে হয়তো বড় কিছু নয়, কিন্তু আমার কাছে নিবিড় বন্ধুত্বের নিদর্শন। নওরীনের উদ্দেশে বলতে চাই, সব সময় হাসিখুশি থেকো, ভালো থেকো।

5

শোবিজের বাইরের কারো সঙ্গে আমার সেভাবে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠেনি। বন্ধু বলতে আমার মা-বাবা, ভাই আর স্বামীকেই বুঝি। বিশেষ করে বলব আমার ভাই মনোময় মনির অর্কর কথা, তার সঙ্গে আমার বয়সের ব্যবধান সাত বছরের। পিঠাপিঠি ভাই-বোন যেমন থাকে, আমরা ঠিক তেমনভাবে বেড়ে উঠেছি। আমরা একজন আরেকজনের সঙ্গে সবকিছু শেয়ার করি, ঘুরতে চাই। কভিডের সময় সে আমার গানের মিউজিক ভিডিও বানিয়েছিল। অর্ক দিন দিন আরো পরিণত হয়েছে। তাকে শুধু বলব, এবার জীবনটাকে গোছাও।

মৌসুমী মৌ, উপস্থাপক

শোবিজে সাধারণত একই পেশার মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব কম হয়। বিশেষ করে আমাদের অঙ্গনে [উপস্থাপনা] তো অবশ্যই। তবু আমার আর অর্চি রহমানের বন্ধুত্ব হয়ে গেল। আসলে আমাদের শুরুটা একই সময়ে, এসএ টিভিতে ‘বেলাশেষে’ অনুষ্ঠানটা একসঙ্গে উপস্থাপনা করতাম। আমরা আনন্দ নিয়ে কাজটা করতাম, একজন আরেকজনের সঙ্গে কাজ নিয়ে আলোচনা করতাম। এখন আমরা মাছরাঙা টেলিভিশনে কাজ করি, এখানেও আমাদের বন্ধুত্ব অটুট। অর্চিকে উদ্দেশ করে একটা কথাই বলব, আরো সফলতা পাও।

শোবিজে অর্চি, ছোটবেলার বন্ধু বহ্নি-অর্থি
শোবিজ বন্ধু অর্চি রহমানের সঙ্গে মৌসুমী মৌ

শোবিজের আরেকজন আছেন আমার বন্ধু, তিনিও নারী। আমার থেকে ছয় বছরের ছোট, আমার শুভাকাঙ্ক্ষী। আমার ভালো-মন্দ দুই সময়েই তাকে পেয়েছি, সামনেও পাব এই আশা রাখি। তার নামটা বিশেষ কারণে উহ্য রাখলাম।

শোবিজের বাইরে আমার কাছের বন্ধু দুজন—বহ্নি ও অর্থি। বলতে গেলে আমরা ছিলাম ‘থ্রি ইডিয়টস’। বহ্নি আমার ছোটবেলার বন্ধু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় পড়াশোনা করেছে। ছোটবেলায় ও খুব অগোছালো ছিল, আমি ছিলাম গোছালো। এখন পুরো বিপরীত, সে এখন এক সন্তানের মা। খুব শিগগির ফিনল্যান্ডে চলে যাবে, খারাপ লাগছে। ও যে স্বপ্ন নিয়ে দূর প্রবাসে পাড়ি দিচ্ছে, সেটা যেন পূরণ হয়। পাশাপাশি তাকে বলব, আরেকটু স্থির হও। আর অর্থি খুবই ভালো, গণিত নিয়ে পড়েছে। সময় মেনে চলে, শুধু রাগটা একটু বেশি। সে যেন রাগটা কমায়।

মাহতিম শাকিব, কণ্ঠশিল্পী

শোবিজে আমার বেশ কয়েকজন বন্ধু রয়েছেন, সেখান থেকে একজন বাছাই করা আসলেই কঠিন ব্যাপার। এরমধ্যে আলাদাভাবে বলতে চাই সুরকার ইমন চৌধুরী ভাইয়ার কথা। ভাইয়ার সঙ্গে আমার পরিচয় একটি বিজ্ঞাপনের সুবাদে, তখন আমি নতুন। এরপর কাজের সংখ্যা বাড়তে থাকে, আমাদের সম্পর্কও দৃঢ় হতে থাকে।

ইমন-রাফসান—দুই চৌধুরী মাহতিম শাকিবের বন্ধু

ইমন ভাইয়ার সঙ্গে আমার বয়সের বেশ ব্যবধান, তবে সেই ব্যবধান আমরা ভেঙে দিয়েছি। আমাদের প্রজন্মের মনস্তাত্ত্বিক ভাবনা উনি আমার থেকে বুঝে নেন, অনুরূপভাবে উনাদের প্রজন্মের ভাবনাও আমি বুঝে নিই। একজন অন্যজনের সঙ্গে ভাবনা শেয়ার ও কাজ করে আনন্দ পাই। এ ছাড়া সাজিদ সরকার ভাইয়ার কথাও বলব, একদম ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আমাদের ভালো সম্পর্ক।

শোবিজের বাইরে আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু রাফসান চৌধুরী। সে আমার শৈশবকালের বন্ধু, আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি। এখনো একসঙ্গেই চলাফেরা করি। আমার সব কাজে সাহায্য করে ও।

পার্থ শেখ, অভিনয়শিল্পী

শোবিজে আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু সাদ নাওভি। আমাদের একসঙ্গে প্রচুর কাজ যেমন হয়েছে, তেমনি আড্ডাও। দুজনের ক্যারিয়ার শুরু একই সঙ্গে। আলাপ করতে করতে বন্ধুত্ব আরো গাঢ় হয়েছে।

5
পার্থর সেলফিতে সাদ

মাঝে বিরতি দিলেও এখন সে নিয়মিত অভিনেতা। ওকে উদ্দেশ করতে একটা কথাই বলব, আরো উন্নতি হোক তোমার। শোবিজের বাইরে আমার প্রিয় বন্ধু ওয়াহিদ হাসান রাজ। ও আমার এলাকার বন্ধু, শৈশবে বিকেলবেলা দেখতাম সবাই মিলে ফুটবল খেলছে। একদিন রাজই আমাকে ডেকে নিয়ে ফুটবল খেলতে বলে। সেই থেকে শুরু, আজও আমাদের বন্ধুত্ব অটুট। ওর সঙ্গে যেন সারা জীবন আমার বন্ধুত্ব অটুট থাকে, এটাই চাওয়া।

LEAVE A REPLY