সংগীতপ্রেমীদের এক সুতায় গাঁথতে চায় ‘রোমিও ব্রাদার্স’

অরূপ সাহা ও নয়ন সৈয়দ

বিভিন্ন ধরনের গান ভিন্ন আঙ্গিকে পরিবেশন করে অল্প সময়েই শ্রোতাদের কাছে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছেন ‘রোমিও ব্রাদার্স’। তাঁদের আসল নাম অরূপ সাহা ও নয়ন সৈয়দ। আজ সন্ধ্যায় তারা গাইবেন যাত্রা বিরতিতে। তাদের পথচলার গল্প জানাচ্ছেন কামরুল ইসলাম।

মেলোডি অ্যান্ড মেমোরিজ

সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে রোমিও ব্রাদার্সের শো ‘মেলোডি অ্যান্ড মেমোরিজ’। বাণিজ্যিক শো করে আসছেন বেশ আগে থেকেই। এবার নিজেদেরই উদ্যোগে করছেন পাবলিক শো।আয়োজনটি নিয়ে অরূপ বলেন, ‘শুরুতে আমরা কিছু পুরনো বাংলা গান পরিবেশন করব।

এরপর রবীন্দ্র ও নজরুলের গান আর শেষদিকে থাকবে কিছু উর্দু গান ও গজল। খুব এক্সাইটেড আমরা। যেহেতু নিজেরাই আয়োজন করছি, তাই সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত একটা চাপ তো থাকেই।তবে আশা করছি, যারা আসবেন, সুন্দর একটা অভিজ্ঞতা নিয়ে যাবেন।

এ ছবিটা আমার ভীষণ প্রিয় : খায়রুল বাসার

ভাই নয় বন্ধু

দলের নাম ‘রোমিও ব্রাদার্স’। শুনে প্রায় সবাই ভাবতে পারেন, অরূপ ও নয়ন বুঝি ভাই। কিন্তু না, তাদের মধ্যে রক্ত কিংবা আত্মীয়তার কোনো সম্পর্ক নেই।তারা মূলত বন্ধু। তাহলে কিভাবে হলো এই মেলবন্ধন? “পরিচয়টা ফেসবুকেই।

করোনার সময়ে মিউজিকের সুবাদেই কথাবার্তা হতো। পরে দেখা হলো, গল্প-কথায় ভাবলাম, দুজন মিলে কিছু করা যায় কি না। নয়ন ভাই সাহিত্য নিয়ে পড়েছেন, তিনিই ‘রোমিও ব্রাদার্স’ নামটি দিয়েছেন। এরপর ধীরে ধীরে আমাদের এগিয়ে যাওয়া”-বললেন অরূপ।

মুখ দেখে যায় না চেনা

অরূপ ও নয়ন দুজনেই সুদর্শন তরুণ। অনেকেই ভাবেন, তারা বিদেশি। তবে অরূপ নিশ্চিত করলেন, তারা শতভাগ বাংলাদেশি। নয়নের জন্ম ও বেড়ে ওঠা পুরান ঢাকায়। আর অরূপ বড় হয়েছেন দোহারের নবাবগঞ্জে। ছোটবেলাতেই দুজনের সংগীতচর্চার সূচনা। এর মধ্যে অরূপের শুরুটা রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি ও ধ্রুপদী গান দিয়ে। আর নয়ন গানে এসেছেন কাওয়ালি, সুফি ও উর্দু গানের চর্চার মধ্য দিয়ে। অরূপের ভাষ্য, ‘সংগীত নিয়েই মানুষ জন্মায়, পরে কেবল পরিচর্যার মাধ্যমে সেটাকে শাণিত করতে হয়। ছোটবেলায় গানের দীক্ষা নিয়েছি, স্কুল-কলেজে থাকাকালীন বিভিন্ন আয়োজনে গান করে পেয়েছি পুরস্কার। এসব আমার আত্মবিশ্বাসকে দৃঢ় করেছে।’

গানই এখন পেশা

বছর দুই-তিন আগেও তাঁরা ভাবেননি, গান করে জীবন এভাবে বদলে যাবে। এখন অরূপ ও নয়ন পেশাদার সংগীতশিল্পী। প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য নেন মোটা অঙ্কের সম্মানি। এ নিয়ে কেউ কেউ অবশ্য বাঁকা কথাও বলেন। তবে অরূপের মতে, তাঁদের পরিবেশনায় ভিন্নতা থাকে। সেটার আয়োজনেও অনেকটা অর্থের প্রয়োজন। তাই ভালো পরিবেশনার জন্য যথার্থ সম্মানি নেন তাঁরা। অরূপ বলেন, ‘আমি পড়েছি মাল্টিমিডিয়া ও ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি নিয়ে। চাকরিও করেছি। কিন্তু সংগীতের মানুষ তো চার দেয়ালে, নয়টা-পাঁচটার চাকরিতে বন্দি থাকতে পারে না। আমিও পারিনি। বলতে গেলে অপরিকল্পিতভাবেই সংগীত আমার পেশা হয়ে গেছে। আমরা বেশ ভালো পারিশ্রমিক নিই। দেখুন, অন্য বড় শিল্পীরা বড়জোর ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পারফর্ম করেন। কিন্তু আমরা দর্শকের ইচ্ছা অনুযায়ী অনেক বেশি সময় ধরে গান করি। তা ছাড়া আমাদের কস্টিউম, অ্যারেঞ্জমেন্টেও থাকে ভিন্নতা।’

সর্বকাজের কাজী

আধুনিক, রবীন্দ্র-নজরুল কিংবা হিন্দি-উর্দু অনেক ধরনের গান করেন ‘রোমিও ব্রাদার্স’। এ নিয়ে অরূপের ব্যাখ্যা এ রকম—‘ওই যে কথায় আছে, জুতা সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ; আমরাও তেমনই। শ্রোতা ও অনুষ্ঠানের ধরনভেদে সব ধরনের গান করি। আর ব্যক্তিগত পছন্দের কথা যদি বলেন, সেটাও প্রহরভেদে ভিন্ন হয়। একেক প্রহরে একেক আঙ্গিকের গানই তো আমাদের মনে নাড়া দেয়।’

জনপ্রিয়তার নেপথ্যে

এ বছরই পথচলার তিন বছর পূর্ণ হবে ‘রোমিও ব্রাদার্স’-এর। এই স্বল্প সময়েই কিভাবে তাঁরা জনপ্রিয় হয়ে উঠল? এর নেপথ্যর রহস্যটা জানালেন অরূপ, ‘দ্বৈতভাবে আমরা যে পরিবেশনা করছি, তা আগে হয়নি। ফলে মানুষ আগ্রহ পাচ্ছে। আরেকটা বিষয়, বলতে যদিও অস্বস্তিকর শোনায়, তবু আমাদের লুকস। চেহারার কারণেও শ্রোতাদের অনেকে আমাদের পছন্দ করছেন।’

মৌলিক গান

পরিচিতি কিংবা অবস্থান তো পোক্ত হচ্ছে, মৌলিক গান নিয়ে কী ভাবছেন ‘রোমিও ব্রাদার্স’? এর জবাবে অরূপ বলেন, ‘দেখুন, একজন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পীকে কিন্তু কেউ জিজ্ঞেস করেন না, মৌলিক গান করছেন না কেন? তাঁর মানে এটা বলছি না, মৌলিক গানের প্রয়োজন নেই। আছে। তবে আমরা একটু ধীরেসুস্থে করতে চাই। যেন সেটা আমাদের হৃদয় থেকে আসে। জোর করে কিছু করতে চাই না। টুকটাক কিছু লিরিক্স লেখা হচ্ছে, আগামী বছর আমরা মৌলিক গানে সময় দেব।’

স্বপ্ন বহুদূর

‘রোমিও ব্রাদার্স’ নিয়ে আপনাদের স্বপ্ন কী? ‘এটা একটা সফল পপ ব্যান্ড হবে। বিশ্বব্যাপী আমাদের পরিচিতি থাকবে। অনেক দেশের শিল্পী ও সংস্কৃতি নিয়ে আমরা কাজ করব। সবাইকে এক সুতায় গাঁথব’-অরূপের জবাব।

LEAVE A REPLY