সংগৃহীত ছবি
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর আইপিএল ট্রফি জয় উদযাপন করতে গিয়ে চলতি বছর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পদদলিতের ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু নতুন করে আলোচনায় এনেছিল ভেন্যুটির নিরাপত্তা ও ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা।
সেই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক তো বটেই, ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেও কার্যত ছিটকে পড়ে চিন্নাস্বামী। এমন অবস্থায়, আগামী আইপিএলে বেঙ্গালুরুর হোম গ্রাউন্ড কোথায় হবে তা নিয়ে শুরু হয় জল্পনা। অবশেষে কর্ণাটক মন্ত্রিসভা নীতিগতভাবে আইপিএল ম্যাচ আয়োজনের অনুমোদন দেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
তবে তাতে জুড়ে দেওয়া হয়েছে শর্ত।
ঘটনার পর চিন্নাস্বামীতে কোনো ধরনের ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন হয়নি। নারী বিশ্বকাপের নির্ধারিত ম্যাচ শেষ মুহূর্তে সরিয়ে নেওয়া হয় অন্য শহরে। ফাইনাল পর্যন্ত সব ম্যাচ হয় মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শিরোপা জেতে ভারত।
শুধু তাই নয়, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পাঁচ ভারতীয় ভেন্যুর তালিকায়ও জায়গা পায়নি চিন্নাস্বামী। দক্ষিণ ভারত থেকে কেবল চেন্নাই, আর সঙ্গে কলকাতা, মুম্বাই, দিল্লি ও আহমেদাবাদ, এ ছাড়া শ্রীলঙ্কার তিনটি স্টেডিয়াম রাখা হয়েছে।
এর পেছনে বড় কারণ স্বাধীন কমিশনের রিপোর্ট। গত জুলাইয়ে বিচারপতি জন মাইকেল ডি’কুনহা স্পষ্টভাবে জানান, বড় মাপের অনুষ্ঠান বা ম্যাচ আয়োজনের মতো সক্ষমতা নেই চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের।
জননিরাপত্তার দিক থেকে সেটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে আইপিএল সামনে রেখে কর্ণাটক সরকার ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার বলেন, ‘আমরা আইপিএলের ম্যাচ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। ইতিবাচক আছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বরকে বলেছি কর্ণাটক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করতে।
উনি ক্রিকেট কর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর সিদ্ধান্ত জানাবেন।’
একই সঙ্গে শিবকুমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ডি’কুনহা কমিশনের সব সুপারিশ মানতেই হবে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকে। ইতিমধ্যে কর্ণাটক সরকার নির্দেশ দিয়েছে, চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজন করতে হলে পূর্ণাঙ্গ পরিকাঠামোগত ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বেঙ্গালুরুর পূর্ত দপ্তরের পক্ষ থেকে কর্ণাটক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকে এ নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত রিপোর্টও চাওয়া হয়েছে। এই পরীক্ষা হবে ‘ন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড ফর টেস্টিং অ্যান্ড ক্যালিব্রেশন ল্যাবরেটরিজ’-এর বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে। কঠোর মানদণ্ডে যাচাই করে দেখা হবে, চিন্নাস্বামী আদৌ ম্যাচ আয়োজনের উপযুক্ত কি না।
সব মিলিয়ে পরিষ্কার, আপাতত শর্তসাপেক্ষেই চিন্নাস্বামীতে ক্রিকেট ফেরার সম্ভাবনা। ডি’কুনহা কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হলেই কেবল আইপিএলের আলো আবার ফিরতে পারে বেঙ্গালুরুর ঐতিহ্যবাহী এই স্টেডিয়ামে।









































