ছবিসূত্র : রয়টার্স
মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেরিজেন্স এজেন্সি তাদের ইউটিউব চ্যানেলে চীনা ভাষায় একটি নতুন নিয়োগসংক্রান্ত ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে চীনের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তিতে যুক্ত হতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই ভিডিওটি ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ধারাবাহিকের সর্বশেষ সংযোজন। ওই সিরিজে চীনা ও রুশ নাগরিকদের লক্ষ্য করে এনক্রিপ্ট করা টর ব্রাউজার ব্যবহার করে কীভাবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিরাপদে যোগাযোগ করা যায়, সে সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওগুলোতে সাধারণত একটি কাল্পনিক চরিত্রকে দেখানো হয়, যে নিজের সরকার সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে ওঠে এবং পরে ওয়াশিংটনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির সিদ্ধান্ত নেয়।
সিআইএ–এর সর্বশেষ ভিডিওটি দুই মিনিটেরও কম সময়ের। এতে একজন চীনা সামরিক কর্মকর্তাকে তার দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়, পাশাপাশি তিনি দেশের নেতৃত্ব নিয়ে নিজের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ক্লিপে নেতৃত্বকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে তারা ‘শুধু নিজেদের স্বার্থই রক্ষা করছে।’
ভিডিওর পরের অংশে ওই কর্মকর্তাকে তার স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে বাড়িতে দেখা যায়। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি এই পাগলদের আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ পৃথিবী গড়তে দিতে পারি না।’
প্রাচীন চীনের সামরিক কৌশলবিদ সান তজু-র গ্রন্থ দ্য আর্ট অব ওয়ার-এর প্রতি ইঙ্গিত করে বর্ণনাকারী বলেন, সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়ী তিনি, ‘যিনি যুদ্ধ না করেই জয়লাভ করেন’। কিন্তু তার দাবি, চীনের বর্তমান নেতৃত্ব ‘আমাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাতে’ আগ্রহী।
ভিডিওটির শেষ দৃশ্যে নায়ককে তার কর্মস্থল থেকে একটি ব্যাগ নিয়ে সামরিক চেকপয়েন্ট অতিক্রম করে একটি নির্জন গাড়ি পার্কিং এলাকায় যেতে দেখা যায়। সেখানে একা বসে তিনি একটি কম্পিউটারে লগইন করেন, সিআইএ–এর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য। তিনি বলেন, এটি ‘আমার পরিবার ও আমার জাতির জন্য লড়াই করার একটি উপায়।’
ভিডিওটি শেষ হয় নাটকীয় বার্তা দিয়ে—‘বিশ্বের ভাগ্য আপনার হাতে।’ এরপর সিআইএ–এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে কীভাবে টর ব্রাউজার ডাউনলোড করতে হবে, সে সম্পর্কিত নির্দেশনা দেখানো হয়।
ইউটিউব ভিডিওর নীচের অংশে থাকা লেখাটিতে ব্যবহারকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, ‘আপনার কাছে কি উচ্চপদস্থ চীনা নেতাদের সম্পর্কে তথ্য আছে? আপনি কি একজন সামরিক কর্মকর্তা অথবা সেনাবাহিনীর সঙ্গে আপনার কোনো লেনদেন আছে? আপনি কি গোয়েন্দা, কূটনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, অথবা উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কাজ করেন, অথবা এই ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করা ব্যক্তিদের সাথে লেনদেন করেন?’
সিআইএ-এর ভিডিওটি সম্পর্কে বেইজিং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পূর্ববর্তী মার্কিন গোয়েন্দা নিয়োগ অভিযানগুলোকে চীনের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ ‘অপরাধ এবং আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনের ২০১৮ সালের এক তদন্ত অনুসারে, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বেইজিং চীনে সিআইএ-এর নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলেছিল, যার ফলে কমপক্ষে ৩০ জনকে মৃত্যু বা কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র : আলজাজিরা।








































