এক টাকার টফি চকোলেট এখন কূটনীতির প্রতীক

সংগৃহীত ছবি

১৯৮৩ সালে ভারতের বাজারে সাধারণ ক্যারামেল টফি চকোলেট হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল ‘মেলোডি’। চার দশকের বেশি সময় পর সেই এক টাকার টফিই এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ইন্টারনেট সংস্কৃতির আলোচনায় উঠে এসেছে।

সম্প্রতি ইতালির রাজধানী রোমে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে ‘মেলোডি’ টফি উপহার দেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবারও ভাইরাল হয়ে ওঠে বহুল আলোচিত ‘মেলোদি’ মিম।

সাধারণ টফি থেকে স্মৃতির অংশ

আশির দশকে ভারতীয় বাজারে কম দামের মিষ্টি ও কনফেকশনারির জনপ্রিয়তার সময় ‘মেলোডি’ বাজারে আনে পার্লে প্রোডাক্টস। এটি চকোলেটের স্বাদযুক্ত হলেও সস্তা, আবার ক্যারামেলের মিশ্রণে শিশুদের কাছে আকর্ষণীয় ছিল।

স্কুল ব্যাগে রাখা, পাড়ার দোকান থেকে কেনা বা ফেরত টাকার বদলে পাওয়া— এভাবেই ‘মেলোডি’ ভারতীয়দের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।

টফিটির বিশেষত্ব ছিল এর দ্বৈত স্বাদ—বাইরে চিবোনো ক্যারামেল, ভেতরে গলে যাওয়া চকোলেট। বছরের পর বছর এর মোড়ক ও স্বাদ প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে এটি শুধু একটি পণ্য নয়, বহু ভারতীয়ের শৈশব স্মৃতির অংশে পরিণত হয়।

‘মেলোডি’ থেকে ‘মেলোদি’

২০২৩ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনের সময় নরেন্দ্র মোদি ও জর্জিয়া মেলোনির হাস্যোজ্জ্বল ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকেই দুই নেতার নাম মিলিয়ে তৈরি হয় ‘Melodi বা মেলোদি’ শব্দটি।

!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম ও বিভিন্ন মিম পেজে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই শব্দ। পরে ২০২৪ সালের জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি নিজেই মোদির সঙ্গে একটি সেলফি পোস্ট করে হ্যাশট্যাগ (#Melodi) ব্যবহার করলে বিষয়টি আরো ভাইরাল হয়ে যায়।

সাধারণত রাজনৈতিক মিম দ্রুত হারিয়ে গেলেও এই ‘মেলোদি’ মিম টিকে যায়।কারণ দুই নেতাই এটিকে সরাসরি অস্বীকার না করে বরং মজার ছলে গ্রহণ করেন।

রোম বৈঠকে নতুন মাত্রা

চলতি সপ্তাহে রোমে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময় মোদি মেলোনিকে ‘মেলোডি’ টফির প্যাকেট উপহার দেন। পরে মেলোনি সেই উপহারের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করলে মুহূর্তেই আলোচনার ঝড় ওঠে।

kk

এর পরপরই নেটিজেনরা ‘মেলোডি’ টফি ও ‘মেলোদি’ মিমের মিল খুঁজে বের করেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নানা মজার পোস্ট ও সম্পাদিত ছবি। কেউ একে ‘টফি কূটনীতি’ বলেছেন, আবার কেউ আখ্যা দিয়েছেন ‘২০২৬ সালের সবচেয়ে মিষ্টি ভূরাজনৈতিক মুহূর্ত’ হিসেবে।

ছোট টফির বড় বার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক কূটনীতিতে প্রতীকী বিষয়গুলোর গুরুত্ব অনেক। কখনো রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ, কখনো ক্রীড়া জার্সি, আবার কখনো একটি সাধারণ টফিও হয়ে উঠতে পারে সম্পর্কের প্রতীক।

‘মেলোডি’র গল্প দেখিয়ে দেয়, কিভাবে একটি সাধারণ ভোক্তা পণ্য ইন্টারনেট সংস্কৃতি, নস্টালজিয়া এবং রাজনৈতিক প্রতীকের মিশেলে বৈশ্বিক পরিচিতি পেতে পারে।

এক সময় স্কুলগেটের পাশে বিক্রি হওয়া এক টাকার টফি এখন ভারত-ইতালি বন্ধুত্বের অনলাইন প্রতীক হয়ে উঠেছে।

LEAVE A REPLY