শিক্ষা সংকট কাটাতে ‘ঋণ-শিক্ষা বিনিময়’ সম্প্রসারণের আহ্বান ইউনেস্কোর

ছবি : রয়টার্স

বিশ্বজুড়ে শিক্ষা খাতে অর্থায়নের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ১১৩টি দেশ তাদের জনগণের শিক্ষার পেছনে যে পরিমাণ খরচ করে, তার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে বিদেশি ঋণ পরিশোধে।এই ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় সরকার এবং আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের প্রতি ‘ঋণ-শিক্ষা বিনিময়’ কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ইউনেস্কো

প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক বৈশ্বিক শিক্ষা সম্মেলনে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি নতুন একটি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। ইউনেস্কো জানায়, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল ঋণে জর্জরিত দেশগুলো তাদের ব্যয়বহুল ঋণ পরিশোধের টাকা বাঁচিয়ে তা স্কুল নির্মাণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ব্যয় করতে পারবে।

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের প্রায় ৬১০ কোটি মানুষের আবাসস্থল এমন ১১৩টি দেশে শিক্ষার চেয়ে ঋণ পরিশোধে বেশি অর্থ খরচ হচ্ছে।নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ শিক্ষা ব্যয়ের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি। এমনকি সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত ১৮টি দেশে এই খরচ তাদের শিক্ষা বাজেটকে অন্তত পাঁচগুণ ছাড়িয়ে গেছে। এদিকে শিক্ষা খাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। ইউনেস্কোর ‘গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্ট’ অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে শিক্ষা খাতে বৈশ্বিক সহায়তা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।ইতিমধ্যেই ২০২৪ সালে শিক্ষা খাতে মোট উন্নয়ন সহায়তার অংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭.৫ শতাংশে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। অর্থায়নের এই ঘাটতির কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলো। তারা প্রতি বছর প্রায় ৯৭ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান, লাইবেরিয়া, মালি ও নাইজারে শিক্ষা সহায়তা ৪০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।

তবে এই সংকট কাটাতে ‘ঋণ-শিক্ষা বিনিময়’ মডেলটি দারুণ কার্যকর হতে পারে বলে জানায় ইউনেস্কো, যা সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকও সমর্থন করেছে।অতীতে ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে আইভরি কোস্ট ৩০টিরও বেশি স্কুল নির্মাণ করেছিল এবং স্পেন-পেরু যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে এক দশকে ৫০টি শিক্ষা প্রকল্পে অর্থায়ন করা সম্ভব হয়েছিল।

ইউনেস্কোর মহাপরিচালক খালেদ এল-এনানি বলেন, শিক্ষা হলো সবচেয়ে শক্তিশালী বিনিয়োগ, অথচ এতে পরিকল্পিতভাবে অপর্যাপ্ত অর্থায়ন করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি বিশ্বনেতাদের দ্রুত রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

LEAVE A REPLY