কুকুরেয়ার অভাব ভুলতেই আর্জেন্টাইন তারকাকে দলে টেনেছে চেলসি?

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপের সেই উত্তপ্ত সেমিফাইনালের স্মৃতি এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে তরতাজা। আটলান্টার রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে আর্জেন্টিনা যখন উল্লাসে মত্ত, ঠিক তখনই গ্যালারি ও ক্যামেরায় বন্দি হয় এক আলোচিত দৃশ্য।ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম তেড়ে গিয়ে হাত চালিয়ে বসলেন এক তরুণ আর্জেন্টাইনের মাথার পেছনে। সেই তরুণ আর কেউ নন—চেলসির নতুন রিক্রুট, ভ্যালেন্তিন বার্কো।

এনজো ফার্নান্দেজের সমতা ফেরানো গোলের পর মাঠজুড়ে দৌড়ে ইংলিশ খেলোয়াড়দের একদম নাকের ডগায় গিয়ে বুনো উদযাপনে মেতে উঠেছিলেন তিনি। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন বেলিংহাম।কিন্তু চেলসি সমর্থকদের কাছে বার্কোর পরিচয় শুধু এই এক ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কারণ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নাম লেখানোর আগে মাত্র ২২ বছর বয়সেই মাঠে যে পরিমাণ প্রোভোকেশন বা প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে অস্থির করে তোলার ক্ষমতা তিনি দেখিয়েছেন, তা অনন্য।

আর্জেন্টাইন ফুটবলের অন্যতম খ্যাপাটে ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের একাডেমিতে লালিত-পালিত বার্কো। মাত্র ১৬ বছর বয়সে যখন সিনিয়র দলে তার অভিষেক হয়, তখনই ফুটবলবোদ্ধারা তার মধ্যে বোকার কিংবদন্তি হুয়ান রোমান রিকেলমের মতো আত্মবিশ্বাস ও নির্ভীকতার ছোঁয়া পেয়েছিলেন।

আর্জেন্টাইন ফুটবল বিশ্লেষক মার্টিন মাজুরের মতে, “বার্কোর ব্যক্তিত্বটাই এমন। সে মাঠে নামলে ভাবটা এমন থাকে—‘এটা আমার বাড়ির উঠোন, তোমরা এখানে আমার নিয়মে খেলবে।’ কোনো চাপই তাকে স্পর্শ করতে পারে না।”

কৈশোরে স্ট্রাইকার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও বোকা জুনিয়র্সের মূল দলে তিনি পরিচিতি পান বাঁ-পাশের ফুলব্যাক হিসেবে। কিন্তু বল পায়ে জটিল পজিশন থেকে বেরিয়ে আসা এবং রক্ষণ চেরা পাস দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতার কারণে তার ভূমিকা বারবার বদলেছে।ডিফেন্ডার হিসেবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ১ কোটি ডলার রিলিজ ক্লজে ব্রাইটনে যোগ দিয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবলে পা রাখেন তিনি। তবে ব্রাইটনের সাবেক কোচ রবার্তো দে জের্বি তার সাহসের প্রশংসা করলেও নতুন কোচের অধীনে সুযোগ না পাওয়ায় ধারে যান স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়া ও পরে ফরাসি ক্লাব স্ট্রাসবার্গে।

ফরাসি ফুটবলে গিয়েই মূলত নিজের সেরা রূপ খুঁজে পান বার্কো। স্ট্রাসবার্গে সাবেক চেলসি কোচ লিয়াম রোসেনিওরের অধীনে তাকে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে খেলানো শুরু হয়। মাঝমাঠে বল টেনে নেওয়া এবং খেলায় গতি নিয়ন্ত্রণের অসাধারণ দক্ষতায় সেখানে তিনি অনন্য হয়ে ওঠেন।

মার্ক কুকুরেয়া রিয়াল মাদ্রিদে চলে যাওয়ার পর চেলসি ডাগআউটে এমন একজন ফুটবলারের অভাব ছিল, যিনি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ও গ্যালারির ক্ষোভ নিজের দিকে টেনে নিয়ে দলের ওপর থেকে চাপ কমাতে পারেন। সেই ভূমিকা পালনে বার্কো শতভাগ নিখুঁত। কিন্তু শুধু মেজাজ বা প্রোভোকেশন নয়, স্ট্র্যাটেজিক্যাল দিক থেকেও তিনি অত্যন্ত পরিপক্ব। অতি সম্প্রতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ডাগআউটে কোচ লিওনেল স্কালোনির পাশে প্রায় ‘সহকারী কোচের’ মতো নির্দেশ দিতে দেখা গেছে এই তরুণকে।

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে সাত বছরের দীর্ঘ চুক্তিতে সই করা বার্কোর ওপর বড় বাজি ধরেছে ব্লুজরা। চেলসির নতুন রূপকার জাবি আলোনসোর অধীনে এই লড়াকু ও ক্ষ্যাপাটে আর্জেন্টাইন কীভাবে নিজেকে মেলে ধরেন এবং ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আবহাওয়া উত্তপ্ত করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।  
 

LEAVE A REPLY