মাত্র ২৫ বছর বয়সে ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ইংলিশ তারকা পেসার

সংগৃহীত ছবি

বয়সটা মাত্র ২৫। ক্যারিয়ারের বসন্ত বাতাস গায়ে মাখার কথা এখনই।কিন্তু একের পর এক ইনজুরির ছোবলে শেষ পর্যন্ত থমকে গেল সব। চোটের কাছে হার মেনে মাত্র ২৫ বছর বয়সেই সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন ইংল্যান্ড ও হ্যাম্পশায়ারের তরুণ ফাস্ট বোলার জন টার্নার। 

ইংল্যান্ডের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন টার্নার। ২০২৪ সালের শেষের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে দুটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন তিনি।এর আগে ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলেও ডাক পেয়েছিলেন এই ডানহাতি পেসার, তবে সেবার ইনজুরির কারণে অভিষেক পিছিয়ে যায়। 

খেলার মাঠকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে টার্নার বলেন, ‘এটি আমার জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত। পিঠের স্ট্রেস ফ্র্যাকচার আমাকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মাঠের বাইরে বসিয়ে রেখেছিল। চোটের পুরনো ইতিহাস পর্যালোচনার পর বাধ্য হয়েই আমাকে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হয়েছে।শেষ পর্যন্ত মনে হলো, মাঠের বাইরের নতুন চ্যালেঞ্জ বেছে নেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়।’

২০২১ সালে হ্যাম্পশায়ারের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় টার্নারের। ওয়ানডে কাপের সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের সাবেক সফল অধিনায়ক স্যার অ্যালাস্টার কুককে সাজঘরে ফিরিয়ে নিজের প্রথম উইকেটের স্বাদ নেন তিনি। সব মিলিয়ে কাউন্টি ক্লাব হ্যাম্পশায়ারের হয়ে তিন ফরম্যাটে ৫১ ম্যাচে ৯৭টি উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন এই তরুণ।

২০২৩ সালের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে টার্নারের বোলিং তোপ দেখেছিল পুরো ইংল্যান্ড।মাত্র ১১.৭৬ গড় এবং ৬.৬৭ ইকোনমি রেটে ২১টি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন তিনি। এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের ডাক পান টার্নার। সে বছর নিউজিল্যান্ড সফরে ‘ইংল্যান্ড লায়ন্স’-এর হয়েও মাঠ কাঁপান তিনি। এ ছাড়া ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ‘দ্য হান্ড্রেড’-এ ট্রেন্ট রকেটসের জার্সিতেও নজর কেড়েছেন। মাঠের নৈপুণ্যের পাশাপাশি সম্প্রতি অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রিও সম্পন্ন করেছেন এই ইংলিশ তারকা।

শৈশবের স্মৃতিচারণ করে টার্নার আরো বলেন, ‘পেশাদার ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রিকেট খেলা আমার ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল। হ্যাম্পশায়ার ও ইংল্যান্ডের জার্সিতে খেলতে পেরে আমি সত্যি ধন্য।’

টার্নারের হুট করে খেলা ছেড়ে দেওয়াকে বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছে হ্যাম্পশায়ার। ক্লাবটির ক্রিকেট ডিরেক্টর জাইলস হোয়াইট আফসোস প্রকাশ করে বলেন, ‘জন অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন ক্রিকেটার। পেশাদার ক্রিকেটে তার যাত্রার এভাবে আকস্মিক ইতি ঘটায় পুরো হ্যাম্পশায়ার পরিবার গভীরভাবে ব্যথিত। গত পাঁচ বছরে টি-টোয়েন্টি ফাইনালস ডে-তে জায়গা পাওয়া, কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ও ওয়ানডে কাপের ফাইনালে লড়াই করার মতো ক্লাবের প্রতিটি বড় অর্জনে তার বড় ভূমিকা ছিল।’
 

LEAVE A REPLY