ছবি : রয়টার্স
তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পথে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় এক নজিরবিহীন কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূল প্রেসিডেনশিয়াল বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানে’ না উঠে, বিমানবন্দরের ক্যাটারিং কনটেইনারে লুকিয়ে গোপনে অন্য একটি ছোট সামরিক বিমানে চেপে বসেন তিনি।অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের সংবাদকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীদের অজান্তেই মূল বিমানটিকে ‘ডিকয়’ বা ফাঁদ হিসেবে আগেভাগেই আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হয়।
গত ৮ জুলাই ঘটে যাওয়া এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ফ্লাইটের ঠিক আগমুহূর্তে বিমানে থাকা সাংবাদিকদের জানালাই বন্ধ বা পর্দা টেনে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর কারণ জানতে চাইলে ট্রাম্প তামাশার ছলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের যেসব শয়তানদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সে কারণে আপনারা সম্ভবত বেশ বিপজ্জনক এক ফ্লাইটে আছেন।’ এরপর আবার ঠাট্টা করে যোগ করেন, ‘আমি গেলে তো আপনারাও যাবেন, তাই না? হয়তো ভবিষ্যতে আপনারা পেশা বদল করার কথা ভাববেন।’
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকি থেকেই ট্রাম্পকে এভাবে গোপন কৌশলে অন্য বিমানে নেওয়া হয়। দুই মার্কিন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ট্রাম্পের প্রেসিডেনশিয়াল বিমান লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য (সারফেস-টু-এয়ার) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা ছিল। এ ছাড়া ন্যাটো সম্মেলনের কাছাকাছি এলাকায় কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ (শোল্ডার-ফায়ার্ড মিসাইল) এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা গিয়েছিল বলেও তথ্য পান গোয়েন্দারা।
ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, ক্যামেরার সামনে স্বাভাবিকভাবেই এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন ট্রাম্প। বিমানটির সামনে ও পেছনে হাইড্রোলিক লিফটে খাবারের কনটেইনার তোলা হচ্ছিল। বিমানে প্রবেশের পরপরই কৌশল বদলে ফেলেন ট্রাম্প। দ্রুত একটি কার্গো কনটেইনারের ভেতর ঢুকে পড়েন তিনি এবং সেখান থেকে তাকে পাশের একটি ছোট বিমান বাহিনীর বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রেসিডেনশিয়াল বিমানের পৃথক অংশে থাকা প্রায় এক ডজন সাংবাদিক ট্রাম্পের এই বিমান বদলের খবর ঘুণাক্ষরেও টের পাননি।মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় থাকা ইরানের এই প্রত্যক্ষ হুমকির মাঝেই তারা ‘ডিকয়’ বিমানে করে তুরস্ক ত্যাগ করেন।
তবে সাংবাদিকদের চরম ঝুঁকিতে ফেলে আসার এই অভিযোগ কানেই তোলেননি ট্রাম্প। পরবর্তীতে এক মন্তব্যে পুরো বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আমি যে বিমানে ফিরেছি, সেটিতেই ঝুঁকি বেশি ছিল।’ তবে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে নিজের চিরচেনা ভঙ্গিতে তিনি যোগ করেন, ‘সত্যি বলতে আমি কোনো কিছু নিয়েই পরোয়া করি না। যা হওয়ার হবে!’









































