সংগৃহীত ছবি
১৯৮৯ সালে মার্কিন সাংবাদিক জর্জ ন্যাপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বব লাজার নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি আমেরিকার নেভাদা মরুভূমির গোপন স্থাপনা ‘এস৪’-এ কাজ করেছেন। তার দাবি, সেখানে এমন একটি যানের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতেন তিনি, যা মানুষের তৈরি নয়।
লাজারের ভাষ্য অনুযায়ী, তার কাজ ছিল ওই যানের প্রপালশন বা পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করা। সহজ করে বললে, যন্ত্রটি কিভাবে কাজ করে, তা বুঝে একই প্রযুক্তি তৈরি করার চেষ্টা করাই ছিল তার দায়িত্ব। তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও লাজারের এই দাবি প্রমাণিত হয়নি। আবার পুরোপুরি মিথ্যাও প্রমাণ করা যায়নি।আর সে কারণেই বব লাজারের গল্প আজও ইউএফও বা ভিনগ্রহের প্রাণী নিয়ে আলোচনায় ফিরে আসে। সম্প্রতি তাকে নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পরিচালক লুইজি ভেন্ডিত্তেল্লির প্রামাণ্যচিত্র ‘S4 : The Bob Lazar Story’ ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুতে অ্যামাজন প্রাইমে মুক্তি পাওয়ার পর বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। জো রোগানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও গণমাধ্যমেও লাজারকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা হয়েছে।
‘এরিয়া ৫১’ যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা মরুভূমির একটি অত্যন্ত গোপন সামরিক এলাকা। দীর্ঘদিন মার্কিন সরকার এ জায়গাটির অস্তিত্ব নিয়েই প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইত না। এই গোপনীয়তাই এরিয়া ৫১-কে ঘিরে নানা রহস্য ও ষড়যন্ত্রতত্ত্বের জন্ম দেয়। অনেকের ধারণা, এখানে ভিনগ্রহের প্রাণীদের যান রাখা হয়েছে এবং সেগুলোর প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। বব লাজারের দাবি আরো নির্দিষ্ট।তার মতে, এরিয়া ৫১-এর কাছাকাছি ‘এস৪’ নামে একটি স্থাপনায় এমন কয়েকটি যান রাখা হয়েছিল, যেগুলো মানুষের তৈরি নয়।
লাজারের গল্প যতটা চমকপ্রদ, তার নিজের পরিচয়ও ততটাই বিতর্কিত। লাজার দাবি করেছেন, তিনি দুটি বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। একটি পদার্থবিজ্ঞানে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটি থেকে, অন্যটি প্রকৌশলে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা ক্যালটেক থেকে। কিন্তু ইউএফও গবেষক স্ট্যানটন ফ্রিডম্যানসহ তার সমালোচকেরা দাবি করেন, এই দুই প্রতিষ্ঠানে লাজারের পড়াশোনার নির্ভরযোগ্য রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তার দাবির পক্ষে কোনো অধ্যাপক বা সহপাঠীকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে তারা জানান। ফ্রিডম্যানের গবেষণায় বরং লস অ্যাঞ্জেলেসের পিয়ার্স জুনিয়র কলেজে লাজারের পড়াশোনার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
লাজার অবশ্য বরাবরই বলে এসেছেন, তার শিক্ষাজীবন ও কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু নথি ইচ্ছাকৃতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বা পরিবর্তন করা হয়েছিল। তার আইনি ইতিহাসও বিতর্কের বাইরে নয়। ১৯৯০ সালে নেভাদায় পতিতাবৃত্তি-সংক্রান্ত একটি গুরুতর ফৌজদারি মামলায় তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন। ফলে তার সমালোচকরা মনে করেন, এসব তথ্য তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ। কিন্তু এখানেই আসল বিতর্ক শেষ হয় না।
লাজারকে নিয়ে বিতর্কের গভীরে আসলে একটি বড় প্রশ্ন রয়েছে- কোনো মানুষের বক্তব্য সত্য কি না, তা বোঝার সময় আমরা কী ধরনের প্রমাণকে গুরুত্ব দেব? লাজারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলা কিছু মানুষ বলেছেন, তার কথাবার্তা তাদের কাছে এমন মনে হয়েছে যেন তিনি কোনো পুরনো অভিজ্ঞতার কথা মনে করে বলছেন। গল্প বানিয়ে বলার মতো মনে হয়নি। শুরুতে সন্দিহান থাকা কিছু পর্যবেক্ষকও পরে বলেছেন, লাজারের বর্ণনায় এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা সহজে সাজানো গল্পের মতো মনে হয় না।
তবে লাজারের সবচেয়ে বড় দাবিটি এখনো প্রমাণিত হয়নি। তার গল্পের কিছু অংশ এমন ছিল, যেগুলো একসময় অবিশ্বাস্য মনে হলেও পরে অন্য তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়। লাজারের সাক্ষাৎকারের পর যুক্তরাষ্ট্র সরকার এরিয়া ৫১-এর অস্তিত্ব স্বীকার করে। পরে আদালতের বিভিন্ন নথিতেও নেভাডার গ্রুম লেক এলাকার তথ্য গোপন রাখতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর অর্থ অবশ্যই এই নয় যে সেখানে ভিনগ্রহের যান রাখা হয়েছিল। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়- লাজার যে গোপন জায়গাটির কথা বলেছিলেন, সেটি কাল্পনিক কোনো স্থান ছিল না। এটাই তাঁর গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। একসময় বলা হতো, লাজার হয়তো একটি কাল্পনিক গোপন ঘাঁটির গল্প বানিয়েছেন। পরে জানা গেল, সত্যিই সেখানে একটি অত্যন্ত গোপন সামরিক স্থাপনা ছিল।
লাজার তার বর্ণনায় বলেছিলেন, গোপন স্থাপনায় কর্মীদের নিয়ে যাওয়া-আসার জন্য লাস ভেগাস থেকে বিশেষ বিমান চলাচল করত। পরে এই ধরনের গোপন বিমান পরিবহন ব্যবস্থার অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আসে। ‘জ্যানেট’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কর্মীদের নেভাডার গোপন সামরিক স্থাপনাগুলোতে নিয়ে যাওয়া হতো। অর্থাৎ লাজারের গল্পের আশপাশের কিছু বাস্তব অবকাঠামো পরে সত্য বলে জানা যায়। তবে এখানেও সতর্ক থাকা দরকার। এরিয়া ৫১ সত্যি ছিল, জ্যানেট বিমান সত্যি ছিল- এগুলো থেকে প্রমাণ হয় না যে লাজার সেখানে ভিনগ্রহের কোনো যান নিয়ে কাজ করেছিলেন। কিন্তু এটুকু বলা যায়, তার পুরো গল্পকে নিছক কল্পকাহিনি বলে উড়িয়ে দেওয়া আগের চেয়ে কঠিন হয়েছে।
লাজারের পরিচয় নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় ১৯৮২ সালের একটি সংবাদ প্রতিবেদনে। লস আলামোস মনিটর পত্রিকায় তাকে লস আলামোসের একটি পদার্থবিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। লস আলামোস ছিল যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণাকেন্দ্রগুলোর একটি। সেখানে বিপুলসংখ্যক গবেষক ও ঠিকাদার কাজ করতেন। এর মানে এই নয় যে লাজার সেখানে ঠিক কী পদে কাজ করতেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা গেছে। তবে এটুকু বোঝা যায়, তিনি একেবারে বিজ্ঞানবহির্ভূত কোনো ব্যক্তি ছিলেন- এমন ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। তাই লাজারকে ‘ঘরে বসে বিজ্ঞান নিয়ে গল্প বানানো একজন মানুষ’ হিসেবে দেখানোও খুব সরল ব্যাখ্যা হয়ে যায়।
লাজারের আরেকটি আলোচিত দাবি ছিল ‘এলিমেন্ট ১১৫’ নিয়ে। তখন ১১৫ নম্বর মৌলটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ছিল না। তাই লাজারের এই দাবি নিয়ে ব্যাপক ঠাট্টা হয়েছিল। পরে অবশ্য ১১৫ নম্বর মৌল আবিষ্কৃত ও স্বীকৃত হয়। এর নাম দেওয়া হয় মস্কোভিয়াম। তবে এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ১১৫ নম্বর মৌলের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে বলেই লাজারের সব কথা সত্য হয়ে যায় না। বিশেষ করে তিনি যে স্থিতিশীল আইসোটোপ বা মহাকর্ষীয় চালনা প্রযুক্তির কথা বলেছিলেন, সেগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। তবু ঘটনাটি তার গল্পকে পুরোপুরি কল্পকাহিনি বলে উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন তৈরি করে।
লাজারকে নিয়ে আরেকটি ব্যাখ্যা হলো- তিনি হয়তো মিথ্যা বলছেন না। তিনি সত্যিই কোনো অভিজ্ঞতার কথা বলছেন। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যা তিনি ভুল করেছেন। এই ব্যাখ্যাটি প্রথমে বেশ যুক্তিসংগত মনে হয়। একজন মানুষ সত্যিই কোনো গোপন স্থাপনায় কাজ করতে পারেন। সেখানে অদ্ভুত কোনো প্রযুক্তি দেখতে পারেন। কিন্তু সেটিকে ভিনগ্রহের প্রযুক্তি বলে ভুল করতে পারেন। সমস্যা হলো, লাজারের বর্ণনা বেশ নির্দিষ্ট। তিনি শুধু বলেননি যে তিনি অদ্ভুত একটি যান দেখেছেন। তিনি সেটির ভেতরের কাঠামো, আলো, চালনা ব্যবস্থা এবং কাজের পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। তাই প্রশ্ন ওঠে- যদি তিনি ভুল করে থাকেন, তাহলে ঠিক কী দেখেছিলেন?
লাজারের বর্ণনার কিছু অংশ বেশ অদ্ভুত। তিনি বলেছেন, যানের ভেতরে কোনো জোড় বা সেলাইয়ের দাগ ছিল না। পুরো ভেতরটা মসৃণ এবং একই ধরনের বাঁকযুক্ত মনে হতো। আলোর আচরণও ছিল অস্বাভাবিক। তার দাবি, কোনো একটি জায়গায় আলো ফেললে শুধু সেই জায়গাটিই আলোকিত হতো। আশপাশের অংশ সাধারণ ঘরের মতো আলোকিত হতো না। এস৪ স্থাপনাটিকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে পুনর্নির্মাণের সময় পরিচালক লুইজি ভেন্ডিত্তেল্লিও একই ধরনের একটি সমস্যার কথা বলেছেন। তার দাবি, ভেতরের অংশকে সাধারণ আলো দিয়ে দেখাতে গেলে সেটি লাজারের বর্ণনার মতোই অস্বাভাবিক অন্ধকার দেখাচ্ছিল। এটি অবশ্য কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নয়। তবে লাজারের বর্ণনাগুলো যে খুব সাধারণ কল্পকাহিনির মতো নয়, সেটি বোঝায়।
লাজারের বর্ণনায় একটি বিষয় বেশ লক্ষণীয়। তিনি কথিত যানটির প্রতি মুগ্ধতার চেয়ে ভয় ও অস্বস্তির কথা বেশি বলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, যানটির নিচ দিয়ে হাঁটার সময় সেটি যেন আকাশের সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল। আলো তার চারপাশ দিয়ে বাঁকছে বলেও তিনি বর্ণনা করেছেন। আরেকটি অদ্ভুত বিষয় ছিল যানটির ওজন। তার দাবি, মনে হচ্ছিল সেটির ওজন মাটিতে স্বাভাবিকভাবে পড়ছে না। এসব দাবির কোনোটিই এখনো প্রমাণিত নয়। কিন্তু বর্ণনাগুলো এমন কিছু খুঁটিনাটি নিয়ে তৈরি, যা একটি সাধারণ কল্পকাহিনির চেয়ে কোনো নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার স্মৃতির মতো মনে হতে পারে।
লাজার দাবি করেছিলেন, প্রথমদিকে তিনি বিষয়টি তার বন্ধু জিন হাফ ও পরে জন লিয়ারকে জানিয়েছিলেন। একপর্যায়ে তিনি তাদের কথিত পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন দেখাতেও নিয়ে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। প্রকাশ্যে আসার পর লাজার আরো বলেন, তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তার গাড়ির দরজা ও ট্রাঙ্ক খোলা পাওয়া এবং বাড়িতে লোকজন ঢোকার মতো ঘটনাও তিনি বর্ণনা করেছেন। সাংবাদিক জর্জ ন্যাপও নজরদারি বা অনুসরণের শিকার হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। এসব ঘটনার সবগুলো প্রমাণিত নয়। তাই এগুলোকে লাজারের দাবির পক্ষে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে এগুলো একটি প্রশ্ন তৈরি করে- লাজার যদি সবকিছু বানিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি ঠিক কী ধরনের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে এত দীর্ঘ সময় ধরে একই গল্প বলে গেলেন?
লাজারের গল্পের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো- এটি প্রমাণিত নয়। আবার তাকে খারিজ করার সবচেয়ে সহজ যুক্তিগুলোও পুরোপুরি নিখুঁত নয়। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তার আইনি ইতিহাসও বিতর্কিত। এসব অবশ্যই তার বিশ্বাসযোগ্যতা মূল্যায়নের সময় বিবেচনা করতে হবে। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্য যে, তার বর্ণিত গোপন স্থাপনার অস্তিত্ব বাস্তব ছিল। সেই এলাকার গোপন বিমান যোগাযোগের ব্যবস্থাও বাস্তব ছিল। লস আলামোসের বৈজ্ঞানিক পরিবেশের সঙ্গে তার কোনো না কোনো সম্পর্কের তথ্যও পাওয়া যায়। এগুলো তার সবচেয়ে বড় দাবি প্রমাণ করে না। কিন্তু এগুলো অন্তত দেখায়, গল্পটি পুরোই মিথ্যে- এমন সিদ্ধান্ত নেয়াও খুব সহজ নয়।
বব লাজার সত্যিই ভিনগ্রহের কোনো যান দেখেছিলেন কি না, তিনি এস৪-এ কাজ করেছিলেন কি না, কিংবা তার বলা পুরো ঘটনাটি অন্য কোনো গোপন সামরিক প্রযুক্তির ভুল ব্যাখ্যা কি না- তা আজও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তাকে প্রতারক ধরে নিলে একটি প্রশ্ন থেকে যায়- কীভাবে তিনি এমন একটি গল্প তৈরি করলেন, যার কিছু বাস্তব তথ্য পরবর্তী সময়ে সত্য বলে প্রমাণিত হলো? আবার তাকে সত্যবাদী ধরে নিলেও প্রশ্ন থেকে যায়। এই দুই প্রশ্নের কোনোটিরই সন্তোষজনক উত্তর এখনো নেই। তাই বব লাজারের গল্পকে সত্য বলে মেনে নেওয়ার মতো যথেষ্ট প্রমাণ যেমন নেই, তেমনি একেবারে অর্থহীন কল্পকাহিনি বলে উড়িয়ে দেওয়ার মতো সরল ব্যাখ্যাও নেই। হয়তো এ কারণেই তিন দশকের বেশি সময় পরও লাজারের গল্প মানুষকে টানে।









































