সংগৃহীত ছবি
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের তেহরান সফর নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা ও কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ যখন নতুন স্তরে প্রবেশ করতে যাচ্ছে, তখন আসিম মুনিরের এই সফর নিয়ে নানান হিসাব-নিকাশ হচ্ছে।এদিকে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জনিয়েছে, আসিম মুনিরের তেহরান সফরের আগে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
একটি সূত্র সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে, ট্রাম্প আসিম মুনিরের সাথে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। ইরানকে পরাস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়েছে রেখেছে, কেউ ইরানের পাশে দাড়ালে তাকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে হবে।উত্তেজনার এই চরম পর্যায়ে আসিম মুনিরের সরাসরি ইরান সফর নিয়েই আলোচনা নানা মহলে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে টেলিফোনে কথা বলার পর আসিম মুনিরের তেহরান সফরকে বিশেষজ্ঞরা ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন। তাদের ধারণা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বার্তা বা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়েই আসিম মুনির তেহরান গেছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ওপরে ওপরে হুমকি পাল্টা হুমকি অব্যাহত রাখলেও আড়ালে সমঝোতার চেষ্টাও চলছে।যার সর্বশেষ প্রকাশ আসিম মুনিরের তেহরান সফর। একটি ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদল নিয়ে গতকাল সোমবার আসিম মুনির তেহরান পৌছান। তিনি সেখানে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, মুনির ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। বৈঠকে রেজাই হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তার আচরণ বদলাতে হবে এবং সমঝোতা স্মারকের শর্তাবলী বাস্তবায়নের জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে।’ আইআরআইবি আরো জানায়, রেজাই ১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারকটি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন।
এর আগে আসিম মুনির ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় গালিবাফ পশ্চিম এশিয়ায় শত্রুতা অবসান এবং হরমুজ প্রণালী ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত আলোচনার পথ তৈরির লক্ষ্যে গত জুনে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতিগুলো বারবার লঙ্ঘন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেন। টেলিগ্রামে গালিবাফের শেয়ার করা একটি বিবৃতি অনুযায়ী, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মুনিরকে সাথে নিয়ে সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করেন। বিবৃতিতে গালিবাফ বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকে পক্ষগুলোর প্রতিশ্রুতিগুলো স্পষ্ট ছিল এবং আমেরিকাই তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে অঞ্চলে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করেছে এবং দেশটির প্রতি নতুন করে অবিশ্বাস তৈরির কারণ তৈরি করেছে।’ এই ইরানি কর্মকর্তা আরও জোর দিয়ে বলেন যে, তেহরান সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইরান কোনো বাহ্যিক চাপের মুখে প্রভাবিত হচ্ছে না।আ
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা সমঝোতা স্মারকের শর্তাবলী বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি এবং আমেরিকাকেই সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে তার প্রতিশ্রুতিগুলো মেনে চলতে হবে।’ বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালীন মুনিরও জানান যে তিনি অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। এর আগে আসিম মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথেও বৈঠক করেছেন। আজ তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সাথে বৈঠকের কথা রয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠজনদের সাথেও আসিম মুনিরের বৈঠকের কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পাকিস্তান মধ্যস্ততাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পালন করে আসছে। যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ইরান একবারই সরাসরি বৈঠক করেছে, আর সেটা ইসলামাবাদে। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক প্রণয়নেও পাকিস্তানের ভুমিকা ছিল। আর পাকিস্তানের পক্ষে সমঝোতা প্রক্রিয়ায় বিশেষ ভূমিকা রাখছেন আসিম মুনির।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের সাথে তার চমৎকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার মধ্যেও আসিম মুনিরের তেহরান সফর বিশ্বরাজনীতিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত জুনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরপরই দুইপক্ষের অনাস্থা আর অবিশ্বাসে তা ভেস্তে যায়। এখন আবার দুই পক্ষই যুদ্ধংদেহী অবস্থান নিয়ে মাঠে নেমেছে। আসিম মুনির মূলত এই ভেঙে পড়া শান্তি আলোচনাকে পুনরুজ্জীবিত করতেই তেহরান সফরে গেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।











































