নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় হওয়া আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৬৭৫-এ পৌঁছেছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২৪০০ জন।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে সৃষ্ট এই দুর্যোগে ভোতে কোশি নদীর তীব্র স্রোত, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নদীর তীরবর্তী শহর ও গ্রামগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। ঘরবাড়ি, যানবাহন, রাস্তাঘাট এবং একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে ১৫০০০-এর বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে ক্রমাগত ব্যবহার করা হচ্ছে হেলিকপ্টার।এ পর্যন্ত ৪৪০০-এর বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬৭ জন ভারতীয় এবং ৪০ জন চীনা নাগরিকসহ মোট ২৬১ জন বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।
৮টি জেলা থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে চিতাওয়ানে ২৪৬ জন, পূর্ব নওয়ালপরাসীতে ১৬৫ জন, পশ্চিম নওয়ালপরাসীতে ৬৩ জন, গোর্খায় ৫৭ জন, নুয়াকোটে ৫১ জন, ধাদিঙে ৪৫ জন, তানাহুতে ৩৫ জন এবং রাসুয়ায় ১৩ জন রয়েছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, রাষ্ট্রের সব শক্তি ও ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে প্রতিটি নাগরিকের জীবন বাঁচানোই এই মুহূর্তে সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ ও তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
প্রতিবেশী ভারত এ পর্যন্ত ৫৭.৬ টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে। ভারতীয় একটি ১১ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল উদ্ধারকাজে নেমেছে এবং জলবিদ্যুৎ সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে সহায়তা করছে। নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে ভারতের এই সহায়তাকে ‘অসাধারণভাবে উদার’ বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে, নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন চীন অংশেও ৭ জন নিহত এবং ৫৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই নেপালকে বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
আবহাওয়া বিভাগ বন্যাকবলিত এলাকায় নতুন করে বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া উজানে একটি কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হওয়ায় ভাটি অঞ্চলে পুনরায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পুরো ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে বর্তমানে ‘উচ্চ সতর্কতা’ জারি রাখা হয়েছে।











































