সেঞ্চুরি থেকে মাত্র আট রান দূরে থেমে গেল বৈভব সূর্যবংশীর ইনিংস। তবে ১৫ বছর বয়সেই দলীপ ট্রফিতে ইতিহাসের পাতায় নাম তুলে ফেললেন ভারতের এই তরুণ ব্যাটার।সোমবার বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই সেন্টার অব এক্সেলেন্স গ্রাউন্ড-১-এ সেন্ট্রাল জোনের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ইস্ট জোনের হয়ে খেলতে নেমে সবচেয়ে কম বয়সে দলীপ ট্রফিতে অর্ধশতরান করার রেকর্ড গড়লেন তিনি।
মাত্র ১৫ বছর ১৫৭ দিন বয়সে ৪২ বলে পঞ্চাশে পৌঁছন বৈভব। সরাংশ জৈনের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে এই নজির গড়েন তিনি। এর ফলে ৫৭ বছর ধরে অক্ষত থাকা রেকর্ড ভেঙে গেল।এত দিন এই রেকর্ড ছিল লক্ষ্মণ সিংয়ের দখলে। ১৯৬৯ সালের দলীপ ট্রফিতে ১৬ বছর ২৩ দিন বয়সে অর্ধশতরান করেছিলেন তিনি। ২০০৫ সালে ১৬ বছর ৩০৭ দিন বয়সে পঞ্চাশ করে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন পীযূষ চাওলা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আজকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেন্ট্রাল জোনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করেন বৈভব।৪০ রানে একবার জীবন পাওয়ার পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন তিনি। মাঠের চার প্রান্তে শট খেলে চাপে ফেলে দেন প্রতিপক্ষের বোলারদের। ৮১ রানে পৌঁছে সরাংশ জৈনের এক ওভারেই একটি চার ও একটি ছক্কা মেরে ঢুকে পড়েন নব্বইয়ের ঘরে।
তবে শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি অধরাই থেকে যায়। ২৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে হর্ষ দুবের বলে আর্শাদ খানকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বৈভব।তাঁর ৮১ বলে ৯২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ছিল একাধিক বাউন্ডারি ও ছক্কা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তাঁর দ্বিতীয় অর্ধশতরান। এর আগে গত রঞ্জি ট্রফিতে মেঘালয়ের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৩ বলে পঞ্চাশ করেছিলেন তিনি।
বৈভবের ইনিংসের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল অভিমন্যু ঈশ্বরণের সঙ্গে তাঁর ১৬২ রানের ওপেনিং জুটি। এই জুটির সৌজন্যেই ইস্ট জ়োন বড় রানের ভিত তৈরি করে ফেলে। দলীপ ট্রফিতে অভিষেক ম্যাচে মাত্র আট রান করে হতাশ করা বৈভব এ দিন ব্যাট হাতে অনেক বেশি পরিণত ও নিয়ন্ত্রিত ক্রিকেট উপহার দেন।
সেঞ্চুরি করতে পারলে আরও একটি বড় রেকর্ড গড়ার সুযোগ ছিল তার সামনে। দলীপ ট্রফির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে শতরান করার নজির রয়েছে শচীন তেণ্ডুলকরের। ১৯৯০-৯১ মরশুমে ১৭ বছর ২৬২ দিন বয়সে শতরান করেছিলেন শচীন। সেই রেকর্ড ভাঙতে বৈভবের প্রয়োজন ছিল আরও আট রান। কিন্তু হর্ষ দুবের বলে আউট হয়ে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়।
তবে সেঞ্চুরি না পেলেও ৯২ রানের ইনিংসেই একাধিক নজির গড়ে ফেলেছেন বৈভব। তাঁর কেরিয়ারে এটি নব্বইয়ের ঘরে থামা সপ্তম ইনিংস। এর পাশাপাশি রয়েছে ১১টি শতরান।আ
ম্যাচের প্রথম দিনেও আলোচনায় ছিলেন বৈভব। ঈশান কিশানের অনুপস্থিতিতে কয়েক ওভার ইস্ট জোনের অধিনায়কত্বও করেন তিনি। এ দিন প্রথমে ব্যাট করে সেন্ট্রাল জোনকে ২৬৬ রানে অলআউট করে ইস্ট জোন। ভারতের টেস্ট দলে থাকা পেসার মুকেশ কুমার এবং ডান হাতি মিডিয়াম পেসার অভিজিৎ সরকার তিনটি করে উইকেট নেন।
অভিষেক ম্যাচের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ দিন বৈভবের ব্যাটিংয়ে ছিল আগ্রাসনের পাশাপাশি ধৈর্যও। আর্যন পাণ্ডে, যশ ঠাকুর, আর্শাদ খান, সারাংশ জৈন এবং হর্ষ দুবেদের বিরুদ্ধে সুযোগ পেলেই আক্রমণ করেছেন। একই সঙ্গে ক্রিজে সময় কাটিয়ে ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মানসিকতাও দেখিয়েছেন।
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই দলীপ ট্রফিতে সবচেয়ে কম বয়সি অর্ধশতরানকারী হয়ে বৈভব বুঝিয়ে দিলেন, ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর আগমন নিছক চমক নয়, ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড ভাঙার ক্ষমতাও রয়েছে এই তরুণ বাঁ হাতির।










































