বগুড়ায় জমি ও আমবাগানের মালিকানাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. মোকসেদ আলী (৩৮) নামের এক যুবককে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে আশপাশের লোকজনকে হটিয়ে দিতে এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে হামলাকারীরা দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সদর উপজেলার মাটিডালী এলাকায় জারা কার হাউজের বিপরীত পাশে এ ঘটনা ঘটে।
আহত মোকসেদ আলী মাটিডালী উত্তরপাড়া এলাকার মো. হায়দার আলীর ছেলে। বর্তমানে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, বারোপুর থেকে নামুজা সড়ক এলাকায় প্রায় ৩২ বিঘার একটি আমবাগানের মালিকানা ও ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।এ বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা মোকসেদ আলীকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। শুক্রবার রাতে মাটিডালী এলাকায় ৬ থেকে ৭ জনের একটি দুষ্কৃতকারী দল এসে প্রথমে দুটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এতে ভয়ে আশপাশের লোকজন সরে গেলে দুর্বৃত্তরা মোকসেদ আলীকে একা পেয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
আহত মোকসেদ আলীর প্রতিবেশী মো. সাব্বির ইসলাম জানান, মোকসেদ পঞ্চগড়ে স্বর্ণের কাজ করেন।মাঝে মাঝে এলাকায় এসে দু-একদিন থেকে আবার চলে যান। এলাকায় তাঁর সঙ্গে কারো ঝামেলা ছিল বলে তাঁদের জানা নেই।
ঘটনার পরপরই বগুড়া জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী, জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি ইকবাল বাহার এবং র্যাব-১২ বগুড়ার কম্পানি কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি গুলির খোসা, দুই জোড়া জুতা ও কিছু লাঠিসোটা জব্দ করেছে।
ঘটনার বিষয়ে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রায়হান উদ্দিন মোরাদ বলেন, রাত পৌনে ১০টার দিকে ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল এসে প্রথমে ফাঁকা গুলি চালায়, যেন সাধারণ মানুষ সরে যায়। পরে ভুক্তভোগীকে একা পেয়ে ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে ৭.৬৫ এমএম বোরের বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি থানা থেকে লুণ্ঠিত কোনো অস্ত্র নয়।
তিনি আরো জানান, বাগানকেন্দ্রিক পূর্বশত্রুতার জের ধরে হামলাটি চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হামলায় কেবল একজনই আহত হয়েছেন। তাঁর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।









































