বেলুচিস্তানে সেনা অভিযান, ৭২ ঘণ্টায় নিহত ৪৮

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। গত ৭২ ঘণ্টার এই অভিযানে অন্তত ৪৮ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আন্ত বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, বেলুচিস্তানের মাস্তুং, কোয়েটা, কালাত ও সিবি জেলায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একাধিক গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী।

দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ বলছে, সর্বশেষ গত ৪৮ ঘণ্টার এসব অভিযানে ৩৬ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে কোয়েটার শাবান এলাকায় সংঘর্ষে ২৬ জন, মাস্তুংয়ে ৬ জন, কালাতে দুজন এবং সিবির ভাগ এলাকায় একটি থানায় হামলার চেষ্টাকালে আরো দুজন নিহত হয়।

এর আগে গত বুধবার বেলুচিস্তানের কালাত জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে ১২ জন সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল আইএসপিআর।

এসব অভিযানগুলোতে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানায় সামরিক বাহিনী। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এলাকাগুলোতে কোনো সন্ত্রাসী অবশিষ্ট থাকলে তাদের নির্মূল করতে তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী এ অভিযানও চালিয়ে যাবে নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানে, বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে।সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে পাকিস্তানে সহিংসতার প্রধান কেন্দ্র খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে সহিংসতায় যত মানুষ নিহত হয়েছে, তার প্রায় ৯৬ শতাংশই ঘটেছে এই দুই প্রদেশে। মোট নিহতদের মধ্যে ৬১ শতাংশের বেশি অর্থাৎ ৪৭৫ জন খাইবার পাখতুনখোয়ায় এবং ৩৪ শতাংশ অর্থাৎ ২৬৫ জন নিহত হয়েছে বেলুচিস্তানে। এ ছাড়া সহিংসতার ঘটনাও সবচেয়ে বেশি ঘটেছে খাইবার পাখতুনখোয়ায়। সেখানে ১৫১টি ঘটনা ঘটেছে, যা দেশজুড়ে মোট ঘটনার ৫৭ শতাংশ।এরপর রয়েছে বেলুচিস্তান, যেখানে ৯৪টি ঘটনা বা ৩৫ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রদেশ দুটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডের ঘনত্বের বিষয়টি উঠে এসেছে।

LEAVE A REPLY