প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে চীনের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জোটভুক্ত নেতারা। তবে এ যৌথ অবস্থানের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে নাউরু।
তাইওয়ানের উপস্থিতি নিয়ে বেইজিংয়ের আপত্তির কারণে এবারের সম্মেলন অনেকটা ম্লান হয়ে পড়ে বলে রয়টার্স জানায়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সম্মেলনের আয়োজক দেশ পালাউয়ের প্রেসিডেন্ট সুরাঙ্গেল হুইপস জুনিয়র জানান, জুলাইয়ে চীনের ছোঁড়া আন্ত মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) বেশ কয়েকটি দ্বীপরাষ্ট্রের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। অথচ এর জন্য যথাযথ পূর্ব-সতর্কতা দেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর প্রশান্ত মহাসাগরে এটিই চীনের প্রথম জানা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ।
শিগগিরই ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেনে’ হামলা হতে পারে : ট্রাম্প
হুইপস জুনিয়র বলেন, নেতারা আহ্বান জানিয়েছেন, আইসিবিএম পরীক্ষা পরিচালনাকারী সব রাষ্ট্র যেন আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে পরীক্ষার বিষয়ে স্বচ্ছভাবে অবহিত করে ও আশ্বস্ত করে। বিবৃতির শেষে তিনি উল্লেখ করেন, এ অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে নাউরু।
চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে বারবার পক্ষ বদলানো দেশ নাউরু ২০২৪ সালে আবার তাইপের বদলে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করে।
নাউরুর এ অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটি শান্তিপূর্ণ উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একটি প্রতিরক্ষামূলক জাতীয় নিরাপত্তা নীতি অনুসরণ করে; সামরিক সম্প্রসারণে চীন কখনো জড়ায়নি বলেও দাবি করে মন্ত্রণালয়।মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও চিয়াকুন নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি রক্ষায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত চীন।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন শুক্রবার বলেন, অধিকাংশ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশের নিজস্ব মত প্রকাশ করা এবং এক-দুটি দেশের ভিন্নমত পোষণ করা স্বাভাবিক।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে সম্মেলনে অংশ নেওয়া বোয়েন এবিসি রেডিওকে বলেন, দৃঢ় অবস্থান প্রকাশের জন্য সর্বসম্মতির প্রয়োজন নেই; অধিকাংশ দেশের অবস্থান এখানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়াবে ভারত-বেলজিয়াম
তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা তিনটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশের একটি পালাউ। ১৮ সদস্যের এ জোটকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানাতে চাপ দিয়েছিল দেশটি।জবাবে বেইজিং বৃহস্পতিবার পালাউয়ের বিরুদ্ধে বিষয়টি নিয়ে অতিরঞ্জন করার অভিযোগ তোলে এবং সতর্ক করে দেয় যে, অন্য দ্বীপরাষ্ট্রগুলোকে প্রভাবিত করার এই ধরনের চেষ্টা ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ এবং সেটি সফল হবে না।
তাইওয়ানের উপস্থিতি নিয়ে চীনের আপত্তিতে সম্মেলন আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেইজিংয়ের যুক্তি, স্বশাসিত তাইওয়ান এ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার যোগ্য নয়। গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চীন, যদিও তাইওয়ান এ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং শুক্রবার চীনের তথাকথিত ‘নেকড়ে যোদ্ধা’ কূটনীতির সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন, সম্মেলনে চীনা কর্মকর্তারা গুপ্তচরবৃত্তিতেও জড়িত ছিলেন। তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ সহজে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্য নষ্ট করে এবং তা অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও অপ্রীতিকর। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাইওয়ান ও চীন উভয়ই আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সম্মেলনে অংশ নিয়েছিল।











































