সংগৃহীত ছবি
জিমে গিয়ে কঠিন ব্যায়াম করতে হবে না। নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমেই শরীরকে সক্রিয় রাখা সম্ভব।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে হাঁটার একটি বিশেষ ধরন—লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং।
দাবি করা হচ্ছে, এইভাবে হাঁটলে পেট ফাঁপা, শরীরে পানি জমে ফোলা ভাব ও ক্লান্তি কমতে পারে। এমনকি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতেও এটি সাহায্য করে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব দাবির সবগুলো প্রমাণিত নয়।এ বিষয়ে ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
কী এই লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং ?
লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং মূলত স্বাভাবিক হাঁটারই একটি ধরন। হাঁটার সময় শরীর সোজা রাখা, স্বাভাবিকভাবে হাত নাড়ানো, আরামদায়ক গতিতে হাঁটা এবং গভীরভাবে শ্বাস নেওয়াই এর মূল বিষয়।
আমাদের শরীরের লিম্ফ্যাটিক ব্যবস্থা অতিরিক্ত তরল সরাতে সাহায্য করে।পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।আ
এই ব্যবস্থায় হৃৎপিণ্ডের মতো কোনো কেন্দ্রীয় পাম্প নেই। পেশির নড়াচড়া ও শ্বাস-প্রশ্বাস লিম্ফ তরল চলাচলে সহায়তা করে।
হাঁটলে কী উপকার হতে পারে?
হাঁটার সময় পায়ের পেশি সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং লিম্ফ তরল চলাচলেও সহায়তা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত হাঁটা শরীরে পানি জমে ফোলা ভাব কমাতে, শরীরের জড়তা দূর করতে এবং জয়েন্টের শক্তভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। যারা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন বা বেশি ব্যায়াম করতে পারেন না, তাদের জন্যও হাঁটা উপকারী।
‘ডিটক্স’ নিয়ে সতর্কতা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিংকে শরীরের ‘ডিটক্স’ করার উপায় হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ মানুষের শরীরে বর্জ্য অপসারণের স্বাভাবিক ব্যবস্থা রয়েছে।
তাই এটিকে কোনো বিশেষ ‘ডিটক্স চিকিৎসা’ হিসেবে দেখার কারণ নেই। এর বড় সুবিধা হলো নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস তৈরি করা।
ওজন কমবে?
নিয়মিত হাঁটা শরীরের শক্তি খরচ বাড়ায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। তবে শুধু লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং করলেই দ্রুত ওজন কমবে—এমন কোনো প্রমাণ নেই।
ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।
কিভাবে হাঁটবেন?
লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিংয়ের জন্য খুব কঠিন কিছু করতে হবে না।
- শরীর সোজা রেখে হাঁটুন।
- স্বাভাবিকভাবে দুই হাত নাড়ুন।
- আরামদায়ক থেকে কিছুটা দ্রুত গতিতে হাঁটুন।
- গভীরভাবে শ্বাস নিন।
- নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করুন।
লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং কোনো জাদুকরী ব্যায়াম নয়। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার চেয়ে নিয়মিত ও সচেতনভাবে হাঁটা শরীরের জন্য অবশ্যই ভালো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ‘ডিটক্স’ বা দ্রুত ওজন কমানোর দাবিকে তাই অতিরঞ্জিত করে দেখা উচিত নয়।










































