শিক্ষকদের কণ্ঠস্বর ভালো রাখতে যে ৫ অভ্যাস এড়াবেন

ছবি: পিন্টারেস্ট

শিক্ষকতা এমন একটি পেশা, যেখানে দিনের বড় একটি সময় কথা বলেই কাটাতে হয়। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়ানো, প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, নির্দেশনা দেওয়া—সবকিছুর জন্যই কণ্ঠস্বরের ওপর নির্ভর করতে হয়।বিশেষ করে কোলাহলপূর্ণ ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে অনেক শিক্ষককে স্বাভাবিকের চেয়ে জোরে কথা বলতে হয়। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস চলতে থাকলে কণ্ঠস্বরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।

এ ছাড়া ক্লাসে দীর্ঘ সময় কথা বলা, পর্যাপ্ত বিরতি না নেওয়া, পানি কম পান করা কিংবা ধুলাবালির সংস্পর্শে থাকার কারণেও গলায় অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। ফলে শিক্ষকরা অনেক সময় গলা বসে যাওয়া বা কথা বলতে গিয়ে ক্লান্তি অনুভব করেন।

ভারতের পুনের রুবি হল ক্লিনিকের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ইএনটি সার্জন ও স্লিপ ডিসঅর্ডার বিশেষজ্ঞ ডা. মুরারজি ঘাডগের মতে, শিক্ষকদের কণ্ঠস্বর অতিরিক্ত ব্যবহারের কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো—গলা বসে যাওয়া, গলাব্যথা, বারবার গলা পরিষ্কার করার প্রয়োজন হওয়া, কণ্ঠস্বর ক্লান্ত হয়ে পড়া এবং দিনের শেষে কথা বলতে সমস্যা হওয়া।

কণ্ঠস্বরের ওপর চাপ কমাতে শিক্ষকদের প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। জেনে নেওয়া যাক, ক্লাসে কোন পাঁচটি অভ্যাস এড়িয়ে চলা ভালো—

১. বেশি জোরে কথা বলা

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের কোলাহল বেশি হলে অনেক শিক্ষক স্বাভাবিকের চেয়ে জোরে কথা বলেন। কিন্তু নিয়মিত এভাবে কথা বললে কণ্ঠনালিতে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।তাই ক্লাসে অপ্রয়োজনীয় শব্দ কমানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে শিক্ষককে গলা উঁচু করে কথা বলতে হবে না এবং শিক্ষার্থীরাও সহজে শুনতে পারবে।

২. একটানা দীর্ঘ সময় কথা বলা

একটানা দীর্ঘ সময় কথা বললে কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষক প্রতিদিন একাধিক ক্লাস নেন, তাদের জন্য বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ। তাই ক্লাসের ফাঁকে কিংবা পড়ানোর সময় প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট বিরতি নেওয়া ভালো।সবসময় কথা না বলে বোর্ডে লেখা, শিক্ষার্থীদের পড়তে দেওয়া বা কোনো কাজ করার সুযোগ দিলে কণ্ঠস্বরও কিছুটা বিশ্রাম পায়।

৩. পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া

কণ্ঠস্বর ভালো রাখার ক্ষেত্রে পানি পান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পানির ঘাটতি হলে গলা শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, ফলে কথা বলার সময় অস্বস্তি বাড়ে। তাই গলা শুকিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা না করে সারা দিন নিয়মিত অল্প অল্প করে পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞের মতে, অতিরিক্ত কফি কিংবা চিনিযুক্ত পানীয় কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতার অনুভূতি বাড়াতে পারে। তাই শিক্ষকদের নিয়মিত পানির পানের অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।

৪. বারবার গলা পরিষ্কার করা

গলায় কিছু আটকে আছে বা অস্বস্তি হচ্ছে মনে হলে অনেকে বারবার গলা পরিষ্কার করেন। কিন্তু এই অভ্যাসও কণ্ঠনালিতে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। সাময়িক অস্বস্তির ক্ষেত্রে পানি পান করা বা কিছুক্ষণ কথা না বলে কণ্ঠস্বরকে বিশ্রাম দেওয়া উপকারী হতে পারে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে গলা পরিষ্কার করার প্রয়োজন হলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৫. কণ্ঠস্বরের ক্লান্তিকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া

দিন শেষে কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে যাওয়া, গলা ব্যথা কিংবা কথা বলতে কষ্ট হওয়াকে অনেক শিক্ষক কাজের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে ধরে নেন। কিন্তু নিয়মিত এমন সমস্যা হলে তা কণ্ঠস্বরের অতিরিক্ত ব্যবহারের লক্ষণ হতে পারে।

গলা বসে যাওয়া, গলা ব্যথা, কণ্ঠস্বর ক্লান্ত হয়ে পড়া কিংবা দিনের শেষে কথা বলতে সমস্যা হওয়ার মতো লক্ষণ নিয়মিত দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রয়োজনে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কণ্ঠস্বর ভালো রাখতে যা করবেন

শিক্ষকদের জন্য কণ্ঠস্বর কর্মক্ষেত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তাই শুধু সমস্যা দেখা দেওয়ার পর নয়, প্রতিদিন থেকেই কণ্ঠস্বরের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত পানি পান, ক্লাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় বিরতি, অতিরিক্ত জোরে কথা না বলা এবং শ্রেণিকক্ষের শব্দ নিয়ন্ত্রণ—এসব অভ্যাস কণ্ঠস্বরের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

কণ্ঠস্বরকে সুস্থ রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দীর্ঘ সময় কথা বলার পাশাপাশি তাকে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দেওয়া। সমস্যা নিয়মিত হলে নিজে থেকে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

LEAVE A REPLY