ঘুমন্ত স্ত্রীকে হত্যা, দোষী সাব্যস্ত সাবেক ‘আমেরিকান আইডল’ প্রতিযোগী

আমেরিকান আইডলের সাবেক প্রতিযোগী ও গির্জার সাবেক সঙ্গীত যাজক ক্যালেব ফ্লিন (৪০) নিজের স্ত্রী অ্যাশলি ফ্লিনকে (৩৭) হত্যার দায়ে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালতের জুরি তিন ঘণ্টারও কম সময় বিচার-বিশ্লেষণ করে এই রায় দেন।রায়ের পর আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্যালেব।

চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টিপ সিটিতে নিজেদের বাড়িতে ঘুমন্ত স্ত্রী অ্যাশলিকে মাথার পেছনে পরপর দুটি গুলি করে হত্যা করেন ক্যালেব। বিবিসি জানিয়েছে, পেশায় স্কুলশিক্ষিকা ও ভলিবল কোচ ছিলেন অ্যাশলি। স্ত্রীকে খুনের পর ক্যালেব পুলিশকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে, কোনো বহিরাগত ডাকাত বাড়িতে ঢুকে এ কাণ্ড ঘটিয়েছে।

মামলার বিচারে উঠে আসে যে, ক্যালেবের সঙ্গে তার গির্জার এক ২৪ বছর বয়সী সাবেক সহকর্মীর প্রায় ১৮ মাসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তদন্তকারীরা তাদের আদান-প্রদান করা এক লাখেরও বেশি টেক্সট মেসেজের সন্ধান পান। স্ত্রীকে হত্যার কয়েক মাস আগে একটি বার্তায় ক্যালেব লিখেছিলেন, ‘আমি শুধু চাই সে মরে যাক’। শুধু তা-ই নয়, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবহার করে একটি গান বানিয়ে তিনি তার প্রেমিকাকেও উৎসর্গ করেছিলেন।

আদালতে ক্যালেবের আইফোন, অ্যাপল ওয়াচ ও পুলিশের বডি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়, যেখানে তার বক্তব্যের বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এ ছাড়া প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তিনি তার ফোন থেকে এআই-মিউজিক অ্যাপসহ বিভিন্ন অ্যাপ ডিলিট করে দিয়েছিলেন। সব প্রমাণ যাচাই করে ক্যালেবের বিরুদ্ধে আনা হত্যা ও প্রমাণ নষ্টের অভিযোগসহ মোট ৮টি অপরাধই প্রমাণিত হয়েছে। মার্ডার ও প্রমাণ বিকৃতির অভিযোগে ক্যালেবকে এখন প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে জনপ্রিয় সংগীত বিষয়ক রিয়্যালিটি শো ‘আমেরিকান আইডল’-এর ১২তম আসরে অংশ নিয়ে অডিশনে নির্বাচিত হয়েছিলেন ক্যালেব ফ্লিন, তবে মূল প্রতিযোগিতায় তিনি পৌঁছাতে পারেননি।

LEAVE A REPLY