ছবি: গেটি ইমেজেস২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ নাভেনথাম ‘নাভি’ পিলাইকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পোস্টটিতে পিলাইকে পুরস্কার দেওয়াকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের মর্যাদার অবমাননা বলে মন্তব্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পকে এ পুরস্কারের যোগ্য বলে দাবি করেছেন পোস্টটির লেখক।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ী হিসেবে নাভি পিলাইয়ের নাম ঘোষণা করে। আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
গত দুই বছর ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করে আসছিলেন ট্রাম্প। এ বছর পুরস্কার ঘোষণার আগেও তিনি নিজেকে এ সম্মানের যোগ্য বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে বিজয়ী ঘোষণার পর তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে মার্কিন আইনজীবী ডেভিড স্কলনের নামে প্রকাশিত একটি পোস্ট শেয়ার করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ওই পোস্টে লেখক দাবি করেন, নাভি পিলাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে কমিটি পুরস্কারটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে। পিলাইয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ, হামাসকে তোষণ এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে তদন্ত পরিচালনার মতো একাধিক অভিযোগও তোলা হয়। এসব বক্তব্য পোস্টটির লেখকের অভিযোগ; এগুলোকে স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
পোস্টে আরও বলা হয়, অতীতে ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তের মতো এবারও কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ট্রাম্পকে পুরস্কারের যোগ্য দাবি করে লেখক তার কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে করা আব্রাহাম চুক্তি, জিম্মিদের মুক্তি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়। ইরানকে মোকাবিলা ও গাজা পুনর্গঠনের উদ্যোগের কথাও পোস্টে তুলে ধরে বলা হয়, ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপ নোবেল শান্তি পুরস্কারের স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।
তবে নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় পিলাইকে পুরস্কার দেওয়ার কারণ হিসেবে শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় তার অবদানের কথা বলা হয়েছে। বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং মানবাধিকার রক্ষায় তার দীর্ঘ কর্মজীবনও কমিটির মূল্যায়নে গুরুত্ব পেয়েছে।











































