সংগৃহীত ছবি
চুপচাপ থাকা, সবার কথা মেনে চলা, নিজের মতামত প্রকাশ না করা—সমাজে এমন মেয়েদেরই অনেক সময় ‘লক্ষ্মী মেয়ে’ বলা হয়। অন্যদিকে, নিজের মত প্রকাশ করলে কিংবা অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে সেই মেয়েকেই শুনতে হয় ‘অলক্ষ্মী’ তকমা।সমাজের এই প্রচলিত ধারণা নিয়ে নিজের ভাবনা জানিয়েছেন টালিউড অভিনেত্রী ইশা সাহা।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে লক্ষ্মীপূজা, শৈশবের স্মৃতি ও সমাজে নারীর অবস্থান নিয়ে নিজের উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন ইশা।
ছোটবেলা থেকেই ‘লক্ষ্মী মেয়ে’ কথাটির সঙ্গে পরিচিত এই অভিনেত্রী। সবার কথা শুনে চলা এবং বাধ্য মেয়ের মতো আচরণ করার মধ্যেই ভালো মেয়ের পরিচয় খুঁজতেন তিনি।দুর্গাপূজার পর লক্ষ্মীপূজা কেন হয়, তা নিয়ে একসময় মাকেও প্রশ্ন করেছিলেন। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্মীদেবীর ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্ব সম্পর্কে তার ধারণাও স্পষ্ট হয়েছে।
ইশা জানান, তাদের বাড়িতে ব্যবসা থাকায় লক্ষ্মী ও গণেশের একসঙ্গে পূজা হতো। কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় নিজ হাতে বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানো ও আলপনা দেওয়ার স্মৃতি আজও তার কাছে বিশেষ।নিজের উপার্জন শুরু করার পর অর্থনৈতিক জীবনে লক্ষ্মীপূজার তাৎপর্য আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন তিনি।
তবে লক্ষ্মী মেয়ে হওয়ার প্রচলিত ধারণা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অভিনেত্রীর। তার মতে, সমাজে শান্ত ও চুপচাপ থাকা মেয়েদের ভালো হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু কেউ স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করলেই তাকে ‘অলক্ষ্মী’ বলা হতে পারে। অথচ নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা বা অন্যায়ের প্রতিবাদ করা কোনোভাবেই কাউকে খারাপ মানুষ করে তোলে না।
ইশার মতে, যতক্ষণ একটি মেয়ে অন্যের পছন্দ অনুযায়ী চলে এবং নীরবে সবকিছু সহ্য করে, ততক্ষণ তাকে ভালো বলা হয়। কিন্তু নিজের মত প্রকাশ করলেই তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যেতে পারে। এই মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
অভিনেত্রীর কাছে লক্ষ্মী হওয়ার অর্থ শুধু অর্থ-সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার চোখে, যারা ঘর ও বাইরের দায়িত্ব সমানভাবে সামলান, নিজের ভালো থাকার পাশাপাশি আশপাশের মানুষকেও ভালো রাখেন, তারাই প্রকৃত অর্থে লক্ষ্মী। সবার ঘরে লক্ষ্মীর আশীর্বাদ থাকুক, দারিদ্র দূর হোক এবং মানুষের জীবনে নতুন আলো আসুক—এমন প্রত্যাশাও জানিয়েছেন ইশা।








































