সংগৃহীত ছবি
সাইকেল চালানো শরীরের জন্য উপকারী ব্যায়াম। তবে দীর্ঘ সময় বা অতিরিক্ত মাত্রায় সাইকেল চালালে নারী-পুরুষের প্রজননক্ষমতায় কোনো প্রভাব পড়ে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিক মাত্রায় সাইকেল চালালে সাধারণত এ নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই। তবে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম নারীদের ডিম্বাশয়ের কার্যক্রম এবং পুরুষদের শুক্রাণুর উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ান
এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজননক্ষমতা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কলিন ডানকানের মতে, নারীদের ক্ষেত্রে কেবল অতিরিক্ত মাত্রায় সাইকেল চালালেই প্রজননক্ষমতা প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের ফলে শরীরের চর্বির পরিমাণ কমে যেতে পারে।এতে ডিম্বাশয়ের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পেশাদার নারী ক্রীড়াবিদদের মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং তাদের প্রজননক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। দীর্ঘ সময় সাইকেলের আসনে বসে থাকলে অণ্ডকোষের আশপাশের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা অনেকটা অণ্ডকোষকে উষ্ণ পরিবেশে রাখার মতো।এতে শুক্রাণু উৎপাদন প্রভাবিত হতে পারে। কারণ, তুলনামূলক কম তাপমাত্রায় শুক্রাণু সবচেয়ে ভালোভাবে বিকশিত হয়। এ কারণেই অণ্ডকোষ শরীরের বাইরে অবস্থান করে।
তবে অধিকাংশ পুরুষের ক্ষেত্রে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন ডানকান। তিনি বলেন, অণ্ডকোষে প্রজননের জন্য যতটা শুক্রাণু প্রয়োজন, তার চেয়ে অনেক বেশি শুক্রাণু উৎপন্ন হয়।
তিনি আরো বলেন, ‘আপনি যদি স্বাভাবিক মাত্রায় সাইকেল চালান, তাহলে প্রজননক্ষমতায় একেবারেই কোনো প্রভাব পড়ার কথা নয়। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় সাইকেল চালালে শুক্রাণুর সংখ্যা কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
তার মতে, এমনকি অতিরিক্ত সাইকেল চালানোর প্রভাবও মূলত তাদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, যাদের শুক্রাণুর সংখ্যা আগে থেকেই স্বাভাবিকের নিম্নসীমার কাছাকাছি।
ডানকান বলেন, আপনার শুক্রাণুর সংখ্যা যদি ভালো থাকে, তাহলে এতে খুব একটা পার্থক্য হওয়ার কথা নয়। তখনও আপনার শরীরে যথেষ্টসংখ্যক শুক্রাণু থাকবে, যেগুলো চলাচল করতে সক্ষম।
বন্ধ্যত্ব চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগীর শুক্রাণুর নমুনা পরীক্ষা করার সময় ডানকান জীবনযাপনের বিভিন্ন বিষয়ও বিবেচনায় নেন।
তিনি বলেন, পরীক্ষায় কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে আমি রোগীর জীবনযাপনের ধরন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি এবং কী কী পরিবর্তন আনা যেতে পারে, তা নিয়ে কথা বলি।
তিনি আরো বলেন, ধূমপান, অ্যালকোহল পান কিংবা সনায় যাওয়ার মতো কোনো অভ্যাস যদি অতিরিক্ত মাত্রায় থাকে, তাহলে সেগুলো কমিয়ে আনা সম্ভবত উপকারী হবে।










































