ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাসভবনে হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে (স্থানীয় সময়) লেবানন থেকে ছোড়া একটি ড্রোন তেল আবিবের উত্তরে সিজারিয়ায় নেতানিয়াহুর বাসভবনে আঘাত হেনেছে। তবে এ সময় নেতানিয়াহু, তার স্ত্রী এবং পরিবার ওই বাসভবনে উপস্থিত না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আলজাজিরা, সিএনএন।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তিনটি ড্রোন ছোড়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি ড্রোন সিজারিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আঘাত হেনেছে এবং গুলি চালিয়ে দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দৃশ্যত ব্যাপক প্রশ্নের মুখে ফেলে দেওয়া এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ফুটেজে দেখা গেছে, ড্রোনটির পেছনে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান ছুটছে। কিন্তু ড্রোনটি মুহূর্তের মধ্যেই নেতানিয়াহুর বাসভবনে আঘাত হানে। এ সময় সেখানে প্রচুর ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। প্রচণ্ড বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে তেলআবিবের উত্তরে গ্যালিলিতে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। ওই এলাকায় ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও আইডিএফের প্রধান গোয়েন্দা কার্যালয় রয়েছে। লেবানন থেকে ধেয়ে আসা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করার কয়েক মিনিটের মধ্যে ইসরাইলের উপকূলীয় শহর সিজারিয়ায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।
সিজারিয়ার একজন বাসিন্দা স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল-টুয়েলভকে বলেছেন, আমরা আকাশে উড়োজাহাজ উড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পেলাম। তখন কোনো ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু কোনো সাইরেনের শব্দ পাওয়া যায়নি। যে কারণে আমরা খুব বেশি চিন্তিত ছিলাম না। তিনি আরও বলেছেন, কিন্তু তারপর হঠাৎ একটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেল। তবে এটি ড্রোন বাধা দেওয়ার কারণে নাকি ড্রোন বিস্ফোরণের শব্দ তা আমাদের কাছে পরিষ্কার ছিল না।
ড্রোন হামলার পাশাপাশি হিজবুল্লাহ স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে এবং শনিবার সকালে ইসরাইলের উত্তরে একাধিক শহরে শত শত রকেট ছুড়েছে। ইসরাইলের সেনাবাহিনী বলেছে, শনিবার লেবানন থেকে ইসরাইলে অন্তত ১১৫টি প্রজেক্টাইল ছোড়া হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, ইসরাইলের উত্তরের বেশ কিছু এলাকা লক্ষ্য করে শতাধিক প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করেছে হিজবুল্লাহ। নিয়মিত বিরতিতে অঞ্চলজুড়ে সাইরেন বাজানো হয়েছে। শনিবার ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রকাশিত একাধিক বিবৃতির ভিত্তিতে ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে এএফপি।
ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলে সবচেয়ে বড় ঘটনা হিসাবে নেতানিয়াহুর বাসভবনে এ হামলাকে দেখা হচ্ছে। ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হিজবুল্লাহ নতুন ধাপে প্রবেশ করার তথ্য জানানোর একদিন পর এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর একদিন আগে হিজবুল্লাহর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতে নতুন ধাঁচের অস্ত্র মোতায়েন করেছে হিজবুল্লাহ।
গোষ্ঠীটির অপারেশন রুম থেকে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা প্রথমবারের মতো নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন ব্যবহার করেছেন। যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি অংশে আক্রমণকারী ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছেন বলেও জানানো হয়েছে।
গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে এ দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় হামাস। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ।
চলমান এ গণহত্যার প্রতিবাদে সে বছরই ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে হিজবুল্লাহ। এরই জেরে লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রায় দুই মাস ধরে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। এসব হামলায় নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে।











































