ভারতীয় জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী। ছবি : এএফপি
২০০৭ সালে সাবেক ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার ভারতীয় ফুটবলকে বলেছিলেন ‘ঘুমন্ত দৈত্য’। সেই মন্তব্যে অনেকেই আশার আলো দেখেছিলেন। বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশটি একদিন হয়তো বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করবে। কিন্তু প্রায় দুই দশক পরও সেই দৈত্য এখনো জেগে ওঠেনি।
বরং ভারতীয় ফুটবল এখন পড়েছে গভীর সংকটে।
পুরুষ জাতীয় দলের কোনো কোচ নেই। সদ্য বিদায়ি কোচ মানোলো মার্কেজ দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। তার অধীনে ৮ ম্যাচে মাত্র একটি জয় পায় ভারত।
শেষ ম্যাচে হংকংয়ের কাছে ১-০ গোলে হারের পরই বিদায় নেন তিনি। ভারতের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও অত্যন্ত হতাশাজনক। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দলটি এখন ১৩৩ নম্বরে। যা গত এক দশকে সর্বনিম্ন।
ভারতীয় জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীর কথাতেই ফুটবলের এই চরম অনিশ্চয়তার চিত্র ফুটে উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘ভারতীয় ফুটবল ইকোসিস্টেমে আমরা সবাই চিন্তিত, কষ্টে আছি, আতঙ্কে আছি এই অনিশ্চয়তার কারণে।’
৪০ বছর বয়সে অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফেরেন ছেত্রী, কারণ তার মতো মানের আর কোনো স্ট্রাইকার উঠে আসেনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার গোল সংখ্যা ৯৫। বিশ্ব ইতিহাসে যা চতুর্থ সর্বোচ্চ।
এদিকে দেশটির শীর্ষ ফুটবল লিগ ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) এখন বিলুপ্তির মুখে। এআইএফএফ (ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন) ও এফএসডিএল (ফুটবল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড)-এর মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। নবায়ন না হলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে গোটা লিগ। এতে প্রায় ৫০০০ খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মীর ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে।
অথচ ভারতের ফুটবল নিয়ে বরাবরই আগ্রহী ফিফা। ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট প্রধান এবং সাবেক আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার গত বছর ভারতে একটি ফুটবল একাডেমি উদ্বোধন করতে আসেন। তিনি জানান, ভারতে ফুটবলের গোড়াপত্তন অনেক দেরিতে হয়, ১৩ বছর বয়সে। অথচ ইউরোপে এটি শুরু হয় মাত্র ৮ বছর বয়স থেকেই।
ভারত এখনো একবারও বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। ২০২৬ সালের আসরেও তাদের দেখা যাবে না। যদিও ইতিহাসে কিছু অলিম্পিক সাফল্য রয়েছে। ১৯৫৬ সালের মেলবোর্ন অলিম্পিকে ভারত চতুর্থ হয়েছিল।
সব মিলিয়ে ভারতের ফুটবল আজ বড় এক সংকটের মুখোমুখি। দেশের ফুটবল কাঠামো ভেঙে পড়ার জোগাড়। আর তাই আজ নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেছে সেপ ব্লাটারের সেই ২০০৭ সালের মন্তব্য, ‘ঘুমন্ত দৈত্য’। তবে প্রশ্ন হলো, এই দৈত্য আদৌ কখনো জাগবে তো?
সূত্র: এএফপি











































