সংগৃহীত ছবি
মায়ানমারের কারারুদ্ধ নেত্রী অং সান সু চির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতির খবর জানিয়েছেন তার ছেলে কিম আরিস। তিনি বলেন, ৭৯ বছর বয়সী নোবেলজয়ী নেত্রীর হৃদরোগের সমস্যা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে এবং জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার প্রয়োজন।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরিস জানান, ‘সঠিক ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়া মায়ের হৃদযন্ত্রের অবস্থা বোঝা সম্ভব নয়। আমি ভীষণ উদ্বিগ্ন।
এমনকি তিনি জীবিত আছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই।’
আরিস আরো বলেন, সু চি হাড় ও দাঁতের সমস্যায় ভুগছেন। গত মার্চে মিয়ানমারে ভূমিকম্পে আহত হয়ে থাকতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ওই ভূমিকম্পে ৩ হাজার ৭০০-র বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
এক ভিডিও বার্তায় আরিস সু চি ও মিয়ানমারের সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দাবি করেন। তবে মিয়ানমারের সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের মুখপাত্র ও তথ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সহিংসতায় জর্জরিত মায়ানমার। সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নে সারা দেশে গণবিক্ষোভ ও সশস্ত্র বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।সু চির বিরুদ্ধে উসকানি, দুর্নীতি ও নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ এনে ২৭ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সেনা অভ্যুত্থানের পর ২০২১ সালের মে মাসে আদালতে তাকে শেষবার জনসমক্ষে দেখা যায়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে তাকে মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক পরে আদালতের কাঠগড়ায় বসে থাকতে দেখা যায়।
সামরিক সরকার অভ্যুত্থানের যৌক্তিকতা হিসেবে নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তোলে।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সে দাবি নাকচ করেছেন। পশ্চিমা সরকার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বরাবরই সু চির মুক্তি দাবি করে আসছে।
এ বছরের ডিসেম্বর থেকে ধাপে ধাপে নতুন নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার। তবে সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)সহ বেশির ভাগ গণতন্ত্রপন্থী দলকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। পশ্চিমা সরকারগুলো এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে জান্তা সরকারের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার কৌশল হিসেবে সমালোচনা করছে।
অং সান সু চি ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মায়ানমারের স্বাধীনতার নায়ক জেনারেল অং সানের কন্যা। বাবার হত্যার সময় তিনি ছিলেন শিশু। জীবনের প্রায় দুই দশক তিনি আটকাবস্থায় কাটিয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ১৫ বছর ইয়াঙ্গুনে গৃহবন্দি ছিলেন।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ব্রিটিশ গবেষক মাইকেল আরিসকে বিয়ে করেন সু চি। তাদের দুই সন্তান জন্মের পর ১৯৮৮ সালে মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি দেশে ফেরেন এবং সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যোগ দেন। সে সময়ই তিনি ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি গঠন করে দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী হয়ে ওঠেন।











































