কোন উৎসবে কোন পোশাক, ধরন বুঝে বেছে নিন শাড়ি-লেহেঙ্গা-চনিয়া চোলি

সংগৃহীত ছবি

উৎসব এলেই পোশাক নিয়ে শুরু হয় নানা ভাবনা। পূজা, বিয়ে, পারিবারিক আয়োজন কিংবা সন্ধ্যার পার্টি—প্রতিটি অনুষ্ঠানের পরিবেশ এক নয়।তাই সব জায়গায় একই ধরনের ভারী বা জমকালো পোশাক পরলে যেমন অস্বস্তি হতে পারে, তেমনি অনুষ্ঠানের সঙ্গে সাজের মিল নাও থাকতে পারে।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়। 

শাড়ি, লেহেঙ্গা কিংবা চনিয়া চোলি—তিনটিই উৎসবের সাজে জনপ্রিয়। তবে কোন অনুষ্ঠানে কোনটি বেছে নেবেন, তা নির্ভর করতে পারে আয়োজনের ধরন, চলাফেরার প্রয়োজন, সময় ও আপনি কতটা জমকালো সাজ চান তার ওপর।

পূজা বা পারিবারিক আয়োজনে শাড়ি

বাংলাদেশে পূজা, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা দিনের দাওয়াতে শাড়ি হতে পারে সহজ ও মার্জিত পছন্দ। বিশেষ করে হালকা সুতি, সিল্ক, জামদানি বা জর্জেটের শাড়ি দীর্ঘ সময় পরেও তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

এ ধরনের আয়োজনে খুব বেশি ভারী গয়না বা জমকালো সাজের প্রয়োজন নেই। সুন্দর ব্লাউজ, ছোট বা মাঝারি আকারের কানের দুল এবং মানানসই ব্যাগেই সাজ সম্পূর্ণ করা যায়।

বিয়ে বা বড় অনুষ্ঠানে লেহেঙ্গা

বিয়ের অনুষ্ঠান, সন্ধ্যার বড় আয়োজন কিংবা জমকালো পার্টিতে একটু বেশি সাজতে চাইলে লেহেঙ্গা বেছে নিতে পারেন। ভারী কাজ, সিকুইন, এমব্রয়ডারি বা সমৃদ্ধ কাপড়ের লেহেঙ্গা এ ধরনের অনুষ্ঠানে মানিয়ে যায়।

তবে শুধু বেশি কাজ করা পোশাকই যে ভালো দেখাবে, এমন নয়। শরীরের সঙ্গে মানানসই কাট ও সঠিক ফিটিং অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভারী লেহেঙ্গার সঙ্গে অতিরিক্ত গয়না ব্যবহার না করে একটি স্টেটমেন্ট নেকলেস বা কানের দুল বেছে নিলেও সাজ আকর্ষণীয় হতে পারে।

নাচ বা বেশি চলাফেরায় চনিয়া চোলি

গারবা বা ডান্ডিয়া ধরনের নাচের আয়োজন থাকলে চনিয়া চোলি বেশ উপযোগী। এর ফ্লেয়ারযুক্ত স্কার্ট চলাফেরার সময় স্বাচ্ছন্দ্য দেয় এবং উৎসবের আমেজও ধরে রাখে।

বাংলাদেশে দুর্গাপূজা বা সাংস্কৃতিক আয়োজনের কোনো অনুষ্ঠানে একই ধরনের পোশাক পরতে চাইলে হালকা কাপড়ের চনিয়া চোলি বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে ওড়না বা দুপাট্টা ভালোভাবে আটকে নেওয়া জরুরি, যাতে নাচ বা হাঁটার সময় বারবার ঠিক করতে না হয়।

সন্ধ্যার পার্টিতে শাড়ি না লেহেঙ্গা?

সন্ধ্যার অনুষ্ঠান হলে দুটিই বেছে নেওয়া যায়। লেহেঙ্গা তুলনামূলকভাবে বেশি সাজানো ও উৎসবমুখর লুক দিতে পারে। অন্যদিকে সিল্ক, টিস্যু, সিকুইন বা জমকালো ব্লাউজের সঙ্গে শাড়িও বেশ গ্ল্যামারাস হতে পারে।

তাই শুধু অনুষ্ঠানের সময় নয়, সেখানে কী ধরনের পরিবেশ থাকবে সেটিও বিবেচনা করা ভালো। ঘরোয়া অনুষ্ঠানে হালকা সাজের শাড়ি যেমন মানানসই, বড় পার্টিতে একটু বেশি কাজের শাড়ি বা লেহেঙ্গা বেছে নেওয়া যেতে পারে।

পোশাক বাছাইয়ে স্বস্তিও গুরুত্বপূর্ণ

উৎসবের পোশাক দেখতে যত সুন্দরই হোক, পরার পর যদি বারবার ঠিক করতে হয় বা হাঁটা-চলায় সমস্যা হয়, তাহলে পুরো আয়োজনটাই অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

অনুষ্ঠানে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে বা চলাফেরা করতে হলে খুব ভারী পোশাক ও অস্বস্তিকর জুতা এড়িয়ে চলা ভালো। আবার এমন অনুষ্ঠানে যেখানে মূলত বসে থাকা বা আনুষ্ঠানিকতা বেশি, সেখানে ভারী পোশাকও সহজে সামলানো যায়।

এক পোশাকেই একাধিক আয়োজন

যারা প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য আলাদা পোশাক কিনতে চান না, তাদের জন্য শাড়ি তুলনামূলকভাবে বহুমুখী হতে পারে। একই শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ, গয়না ও জুতার পরিবর্তন করে সাজের ধরন বদলে নেওয়া যায়।

একইভাবে সাধারণ নকশার লেহেঙ্গাও আলাদা দোপাট্টা বা গয়নার মাধ্যমে ভিন্নভাবে সাজানো সম্ভব। ফলে পোশাক কেনার সময় শুধু বর্তমান অনুষ্ঠানের কথা না ভেবে ভবিষ্যতে আর কোথায় পরা যাবে, সেটিও ভাবা যেতে পারে।

সব শেষে, উৎসবের পোশাক বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অনুষ্ঠানের ধরন, নিজের স্বস্তি এবং ব্যক্তিগত পছন্দ। ছোট পারিবারিক আয়োজনের জন্য যেমন হালকা শাড়িই যথেষ্ট হতে পারে, তেমনি বড় বিয়ের অনুষ্ঠানে লেহেঙ্গা বা জমকালো শাড়ি বেছে নেওয়া যায়। আর নাচ বা বেশি চলাফেরার আয়োজন হলে চনিয়া চোলি হতে পারে আরামদায়ক বিকল্প।

LEAVE A REPLY