ছবি : রয়টার্স
তুরস্কের ফুটবলে নেমেছে এক নজিরবিহীন জুয়ার কেলেঙ্কারির ঝড়। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আটজনকে, যাদের মধ্যে রয়েছেন তুরস্কের শীর্ষ লিগ ক্লাব এইউপস্পোরের চেয়ারম্যান মুরাত ওজকায়া।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, আদালতের আদেশে এইউপস্পোর চেয়ারম্যানসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশন (টিএফএফ) এই ঘটনার পর কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
দেশের সব স্তরের লিগ থেকে ১,০২৪ ফুটবলারকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
টিএফএফ জানিয়েছে, এদের সবাইকে শৃঙ্খলাবিষয়ক পরিষদে (পিএফডিকে) পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জন সুপার লিগের খেলোয়াড়, যাদের মধ্যে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন গালাতাসারাই ও ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বেসিকতাসের খেলোয়াড়ও রয়েছেন।
ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘১,০২৪ খেলোয়াড়কে তদন্তাধীন হিসেবে শৃঙ্খলা কমিটিতে পাঠানোর পর, ক্লাবগুলোর স্কোয়াড পূরণের সুযোগ দিতে আমরা ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছি।যাতে ২০২৫-২৬ শীতকালীন দলবদলের সঙ্গে মিলিয়ে জাতীয় স্তরে অতিরিক্ত ১৫ দিনের দলবদল ও নিবন্ধনের সময় অনুমোদিত হয়।’
ঘটনার পর টিএফএফ দেশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের লিগের ম্যাচ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফেডারেশনের বোর্ড মঙ্গলবার বিকালে এক জরুরি বৈঠকে বসবে।
ফেডারেশনের সভাপতি ইব্রাহিম হাজি ওসমানোউগ্লু এই ঘটনাকে তুর্কি ফুটবলের ‘নৈতিক সংকট’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জানা গেছে, দেশের পেশাদার লিগে কর্মরত ৫৭১ জন সক্রিয় রেফারির মধ্যে ৩৭১ জনেরই অনলাইন বেটিং অ্যাকাউন্ট আছে, এবং এর মধ্যে ১৫২ জন নিয়মিত জুয়া খেলতেন।
চাঞ্চল্যকরভাবে জানা গেছে, একজন রেফারি একাই ১৮,২২৭ বার বাজি ধরেছেন, আর ৪২ জন রেফারি হাজারের বেশি ম্যাচে বাজি রেখেছেন। কেউ কেউ মাত্র একবার জুয়া খেললেও, এই পরিসংখ্যান গোটা তুর্কি ফুটবলকেই নাড়িয়ে দিয়েছে।











































