হামজার চোটের মধ্যে বড় দুঃসংবাদ পেল লিস্টার সিটি

ছবি : রয়টার্স

চোটের কারণে কয়েক সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন বাংলাদেশি তারকা হামজা চৌধুরী। এই খবরের এক দিনের মাথায় আবারও দুঃসংবাদ পেল হামজার ক্লাব লিস্টার সিটি। আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ক্লাবের ৬ পয়েন্ট কেটে নিয়েছে ইংলিশ ফুটবল লিগ (ইএফএল) কর্তৃপক্ষ। 

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাৎক্ষণিক কার্যকর হওয়া এই শাস্তিতে চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলে ১৭তম স্থান থেকে নেমে ২০তম স্থানে চলে গেছে ফক্সরা।

গোল পার্থক্যের সুবাদে তারা আপাতত অবনমন অঞ্চলের ঠিক বাইরে থাকলেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। 

গত মে মাসে প্রিমিয়ার লিগ লিস্টারের বিরুদ্ধে ‘প্রফিট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রুলস’ (পিএসআর) ভাঙার অভিযোগ আনে। ২০২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত আগের তিন অর্থবছরে নির্ধারিত সীমার বেশি আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছে ক্লাবটি। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন হওয়ায় মামলাটি শেষ পর্যন্ত ইএফএলের অধীনে যায় এবং সেখানকার পিএসআর বিধি অনুযায়ী লিস্টারকে শাস্তি দেওয়া হয়।

শাস্তির ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে লিস্টার সিটি জানিয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তে ‘হতাশ’ এবং একে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে মনে করছে। 

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কমিশনের সিদ্ধান্তে প্রিমিয়ার লিগ যে নজিরবিহীন কঠোর শাস্তি চাইছিল, তার মাত্রা কমেছে। তবে তবুও এই সুপারিশ যথাযথ নয় এবং আমাদের উপস্থাপিত লঘুকরণমূলক (মিটিগেটিং) বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। এর প্রভাব এ মৌসুমে আমাদের ক্রীড়া লক্ষ্যের ওপর বড় ধরনের হতে পারে।

’ ক্লাবটি জানিয়েছে, তারা পুরো রায় পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য আইনি পথ খতিয়ে দেখছে।

পিএসআর অনুযায়ী, প্রিমিয়ার লিগের কোনো ক্লাব তিন বছরে সর্বোচ্চ ১০৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ক্ষতি করতে পারবে না। তবে প্রতিটি মৌসুমে যদি কোনো ক্লাব শীর্ষ লিগের বাইরে থাকে, তাহলে সেই সীমা ২২ মিলিয়ন পাউন্ড করে কমে যায়। লিস্টারের ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৯.৪ মিলিয়ন পাউন্ড। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ক্লাবটি ৮৯.৭ মিলিয়ন পাউন্ড এবং ২০২২ সালের মে পর্যন্ত ১২ মাসে রেকর্ড ৯২.৫ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতির কথা জানিয়েছিল।

এই হিসাবগুলোতে অবশ্য অবকাঠামো উন্নয়ন কিংবা নারী ফুটবলে বিনিয়োগের মতো কিছু ব্যয় ‘অ্যাড-ব্যাক’ হিসেবে ধরা হয়নি, যেগুলো লিগ কর্তৃপক্ষ সাধারণত ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে করা ব্যয় হিসেবে বিবেচনা করে। 

লিস্টার দাবি করেছিল, তাদের হিসাব ৩৭ মাসের পরিবর্তে ৩৬ মাসের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত, কারণ ২০২৩-২৪ মৌসুমের হিসাব জমা দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। কমিশন লিস্টারের এ যুক্তি মেনে নেয়। তাতে দেখা যায়, ইএফএলের নির্ধারিত ৮৩ মিলিয়ন পাউন্ড সীমার চেয়ে তারা ২০.৮ মিলিয়ন পাউন্ড বেশি ব্যয় করেছে। নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১২ পয়েন্ট কাটা যেতে পারলেও ক্লাবটির ‘উন্নত আর্থিক অবস্থান’ বিবেচনায় নিয়ে শাস্তি ছয় পয়েন্টে সীমিত রাখা হয়েছে।

মাঠের পারফরম্যান্সেও চাপে আছে হামজার লিস্টার। চ্যাম্পিয়নশিপে টানা চার ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি দলটি, এর মধ্যে তিনটিতেই হেরেছে। জানুয়ারিতে মার্তি সিফুয়েন্তেস বরখাস্ত হওয়ার পর ক্লাবটি এখনো স্থায়ী কোচ নিয়োগ দিতে পারেনি। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ অ্যান্ডি কিংয়ের নেতৃত্বে শনিবার বার্মিংহাম সিটির মুখোমুখি হবে লিস্টার সিটি। 
 

LEAVE A REPLY