অনুপ্রবেশকারী, বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে সব জেলায় এসংক্রান্ত একটি বিশেষ নির্দেশিকা পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রনালয়।
ওই সমস্ত ‘হোল্ডিং সেন্টার’ সন্দেহভাজন হিসেবে আটককৃদের পাশাপশি আগে যারা ধরা পড়েছে। এমনকি যাদের নিজ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে, তাদেরও সেখানে রাখা হবে। আটককৃতদের সেন্টারে ৩০ দিন পর্যন্ত রাখা যাবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
জানা যায়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে ‘ডিটেক্ট (চিহ্নিত করা), ডিলিট (মুছে দেওয়া) এবং ডিপোর্ট (ফেরত পাঠানো)’ বা থ্রি ডি নীতি গ্রহণ করেছে।অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটকদের পরিচয় যাচাই, আইনি প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই সেন্টারগুলোতে রাখা হবে।
এদিকে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর নির্দেশনা আগেই জারি করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু আগের রাজ্য সরকার সেই নির্দেশনা মানেনি। ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয়ী হয়।মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতা গ্রহণের পরেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে। সর্বশেষ এই বিষয়ে রাজ্যে প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ জারি হলো।
নবান্নতে বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাঁদের সকলকে চিহ্নিত করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। বিএসএফ তাঁদের সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ করবে।
এ বিষয়ে নবান্ন এক বিশেষ নির্দেশনা জারি করে।এতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহভাজন যারা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে বেআইনি ভাবে বসবাস করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। রাজ্যের সকল জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং এ রাজ্যের জেল থেকে ছাড়া পাওয়া বিদেশি বন্দিদের রাখার জন্য এসব সেন্টার ব্যবহার করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফরেনার্স ডিভিশনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে একটি আট পাতার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। তাতে অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির কথাও বলা হয়েছিল।











































