সংগৃহীত ছবি
সাম্প্রতিক ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের আকাশে সামরিক মহড়া চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন বাহিনী কারাকাসে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করার পর দেশটিতে এটিই প্রথম সামরিক মহড়া।ওই হামলায় অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছিল।
ভেনেজুয়েলা সরকার বলেছে, সম্ভাব্য চিকিৎসা জরুরি অবস্থা বা দুর্যোগ মোকাবিলায় উদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই মহড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এতে দুটি এমভি-২২বি অসপ্রে বিমান যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছে অবতরণ করে এবং কয়েকটি জাহাজ ক্যারিবীয় সাগর হয়ে ভেনেজুয়েলার জলসীমায় প্রবেশ করে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ভেনেজুয়েলার তথ্য মন্ত্রণালয়।
এদিকে এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন ধাপের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বিশেষ করে ‘ভেনেজুয়েলার স্থিতিশীলতা’ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান ফ্রান্সিস ডোনোভান একটি অসপ্রে বিমানে করে কারাকাসে যান এবং সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
৫৭ বছর বয়সী প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইভেলিন রেবোলেদো বলেন, ‘এটি আমাদের সতর্ক করে রাখছে।’
অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে উল্লেখ করে কারাকাসের এই বাসিন্দা বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে এবং দেশের চলমান অস্থিরতার মধ্যে আমাদের আকাশে বিদেশি বিমান উড়তে দেখা আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।’
ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ডেলসি রদ্রিগেজের সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে। মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের সরকার ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল ও খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ সহজ করতে বিভিন্ন আইন পাস করেছে।
এদিকে, বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো শনিবার পানামা সিটিতে প্রবাসী ভেনেজুয়েলীয়দের এক সমাবেশে বক্তব্য দেন। তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে বলেন, ‘আমাদের দেশে ফেরার মুহূর্ত আরও কাছে চলে এসেছে। সামনে বড় কিছু আসছে, বিশাল কিছু ঘটতে যাচ্ছে।’
নোবেলজয়ী মাচাদো গত ডিসেম্বর আত্মগোপনে থাকার পর ভেনেজুয়েলা ছেড়ে যান। এরপর থেকে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তার নেতৃত্বাধীন বিরোধী আন্দোলনকে ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রকৃত বিজয়ী হিসেবে দেখা হয়, যে নির্বাচনে মাদুরোর বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল।









































