মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ, আলোচনায় ইরান

ইরান সফরে যাওয়ার আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে এই ফোনালাপ হয়।

সেখানে ইরান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

কথোপকথন সম্পর্কে জানেন এমন একটি সূত্র সিএনএনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানায়, গত সপ্তাহে ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ওই সময় আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ইরান।

এরপর সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছান মুনির। ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এবং পুরো পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কার ভেতরই তার এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, তেহরানে মুনির ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে বৈঠক করেন।

প্রয়োজন হলে সামরিক হামলা চালাব : ইরানকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

বৈঠকে রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তার আচরণ পরিবর্তন করতে হবে এবং আগে করা সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। রেজায়ি বিশেষভাবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ইরানের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আইআরআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুনে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক তৈরিতে পাকিস্তানের ভূমিকার কথাও বৈঠকে তুলে ধরেন রেজায়ি।

এই সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য ছিল পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত কমানো এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি আলোচনার সুযোগ তৈরি করা। এর আগে সোমবার তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। মুনিরের ইরান সফরের অংশ হিসেবে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন গালিবাফ। তিনি অভিযোগ করেন, জুনে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র বারবার তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।

কলাবাগানের বাসা থেকে নটর ডেম কলেজের সাবেক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

গালিবাফ পরে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে তারা সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকে প্রতিটি পক্ষের দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র নিজের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গালিবাফের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের কারণে দেশটির ওপর ইরানের অবিশ্বাস আরো বেড়েছে।

প্রয়োজন হলে সামরিক হামলা চালাব : ইরানকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

তিনি আরো বলেন, ইরান এখনো সমঝোতা স্মারকের শর্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। বাইরের চাপ ইরানের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারছে না বলেও দাবি করেন তিনি। গালিবাফ বলেন, সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকেও নিজের প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে হবে। বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নিজের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। গালিবাফের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

LEAVE A REPLY