ছবি : রয়টার্স
তিব্বত থেকে নেমে আসা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও চীনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।এখনো এক হাজার ৫০০ জন নিখোঁজ। দুর্যোগের পর অভিযোগ উঠেছে, চীন আগে থেকে নেপালকে সতর্ক করলে ব্যাপক প্রাণহানি ঠেকানো যেত। সুযোগ থাকার পরও বেইজিং তা কাঠমান্ডুকে জানায়নি।
নেপালের বিভিন্ন মহল বলছে, চীনের জিরং বন্দর ও সীমান্ত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি শুরু হওয়ার পর ভাটির দিকে থাকা নেপালের মানুষকে সতর্ক করা সম্ভব ছিল।নেপালের দৈনিক নয়া পত্রিকার এক সাংবাদিকও আগাম সতর্কতা না পাওয়ায় প্রাণহানি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে চীন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নেপালে চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, নেপালকে আগাম সতর্ক করা হয়নি, এমন দাবি সঠিক নয়। দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট সকালে নেপালের অংশে হিমবাহ ধস বা ভূমিকম্পের মতো একটি ঘটনা ঘটে।এর ফলে বড় ধরনের ভূমিধস হয় এবং নেপাল ও চীনের সীমান্তের দুই পাশেই হতাহত ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটে।
চীনা দূতাবাস বলেছে, দোষারোপ করে কোনো লাভ নেই, সহযোগিতাই জীবন বাঁচাতে পারে।
এদিকে নেপালের জাতীয় পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ড. গোবিন্দ রাজ পোখরেল বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় এমন বন্যা শনাক্ত করার জন্য চীনের উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে বলে তিনি আশা করেছিলেন। কিন্তু এবারের ঘটনায় সেই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করেছে বলে মনে হয়নি।
ড. পোখরেল বলেন, নেপাল ও চীনের সীমান্ত এলাকায় বন্যা ও হিমবাহজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় আরো শক্তিশালী নজরদারি ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা দরকার।তিনি জানান, চীনের উন্নত স্যাটেলাইট ও প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্যার আগে কোনো সংকেত বা ছবি পাওয়া সম্ভব ছিল। সেই তথ্য নেপালকে জানানোও সম্ভব ছিল। কিন্তু নেপালের কাছে এমন কোনো তথ্য পৌঁছায়নি।
তিনি আরো বলেন, নেপালের ভাটির এলাকায় তখন বৃষ্টি হচ্ছিল না। তাই নদীর পানি এত দ্রুত বেড়ে যাবে, তা কেউ ধারণা করতে পারেনি। এমনকি মানুষকে নদীর কাছ থেকে দূরে সরাতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও পানির স্রোতে ভেসে যান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা, পাথর ও বরফের স্রোত রাসুয়া জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী, পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারাও এতে প্রাণ হারিয়েছেন। ড. পোখরেল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেপাল-চীন সীমান্তের এই পাহাড়ি অঞ্চল আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই এ ধরনের দুর্যোগের তথ্য দুই দেশের মধ্যে দ্রুত আদান-প্রদান এবং আগাম সতর্কতাব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি।
নেপালে আকস্মিক বন্যার সম্ভাব্য কারণ কী
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার প্রধান কারণ হিসেবে হিমবাহের বরফ, পাথর ও পানি হঠাৎ নেমে আসাকে মনে করা হচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭৫ জন নিহত হয়েছেন এবং অনেক ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তর্জাতিক পর্বত উন্নয়ন সংস্থা আইসিমড-এর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বুধবারের বন্যা সম্ভবত হিমবাহের কোনো অংশ ধসে যাওয়ার কারণে হয়েছে। নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাসুয়াগাড়ি সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে।
ধসে পড়া বরফ ও পাথর কোনো হিমবাহ হ্রদে পড়ে অথবা নদীর পথ আটকে দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, কাদা ও পাথর নেমে আসে। এই স্রোত লেন্দে খোলা নদী হয়ে ভোতে কোশী নদীতে গিয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। এ ধরনের বন্যাকে হিমবাহ-উৎসারিত আকস্মিক বন্যা বলা হয়।
প্রাথমিকভাবে একটি ভূমিকম্পকে বন্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হয়েছিল। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার সর্বশেষ বিশ্লেষণে ওই এলাকায় ভূমিকম্পের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে ঠিক কী কারণে বরফ ও পাথরের ধস হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নেপালের জলবিজ্ঞান ও আবহাওয়া বিভাগও তদন্ত করছে, কোনো হিমবাহ হ্রদ হঠাৎ উপচে পড়ার কারণে বন্যাটি হয়েছে কি না।
এর আগে গত বছরের আগস্টেও একই এলাকায় হিমবাহ হ্রদের পানি উপচে আকস্মিক বন্যা হয়েছিল। ওই ঘটনায় জিরং বন্দরে ৯ জন নিহত হন এবং নেপাল-চীন সংযোগকারী একটি সেতুসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবারের বন্যায় চীনের জিরং বন্দর এলাকাতেও ভূমিধস হয়েছে। এতে সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জিরং বন্দর নেপাল ও চীনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থল যোগাযোগপথ।
এ ধরনের বন্যাকে হিমবাহ-উৎসারিত আকস্মিক বন্যা বলা হয়। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, ভূমিকম্পের কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ওই এলাকায় ভূমিকম্পের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে ঠিক কী কারণে বরফ ও পাথরের ধস হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নেপালের জলবিজ্ঞান ও আবহাওয়া বিভাগও বিষয়টি তদন্ত করছে। কোনো হিমবাহ হ্রদের পানি হঠাৎ বেড়ে গিয়ে এই বন্যা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত বছরের আগস্টেও একই এলাকায় হিমবাহ হ্রদের পানি উপচে আকস্মিক বন্যা হয়েছিল। ওই ঘটনায় জিরং বন্দরে ৯ জন নিহত হন। নেপাল ও চীনের মধ্যে যোগাযোগকারী একটি সেতুসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবারের বন্যায় চীনের জিরং বন্দর এলাকাতেও ভূমিধস হয়েছে। এতে সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জিরং বন্দর নেপাল ও চীনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থল যোগাযোগপথ।








































