সংগৃহীত ছবি
বয়স ৬৮। কিন্তু দৌড়ের গতি দেখলে বয়সের কথা বিশ্বাস করাই কঠিন।পর্তুগালের দৌড়বিদ জোসে আগুইয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের দৌড়ের ভিডিও দিয়ে নজর কেড়েছেন। ৬৮ বছর বয়সেও তার দৌড়ের গতি দেখে অবাক নেটিজেনরা। কেউ কেউ আবার মজা করে প্রশ্ন করেছেন, ভিডিওটি সত্যিই বাস্তব নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি।
ইনস্টাগ্রামে জোসের অনুসারীর সংখ্যা ইতিমধ্যে ১০ লাখের বেশি।নিয়মিত দৌড়, ব্যায়াম এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তের ভিডিও শেয়ার করেন তিনি। সম্প্রতি তার সকালের রুটিন ও দৌড়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই তাকে নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
জোসের গল্পের সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, তিনি ছোটবেলা থেকে দৌড়বিদ ছিলেন না। বরং ৫০ বছর বয়সের পর দৌড় শুরু করেন তিনি। বয়স বাড়ার পর নতুন করে দৌড় শুরু করেই ধীরে ধীরে এটিকে নিয়মিত অনুশীলনের অংশ বানান।
এখন পর্যন্ত ২০০টির বেশি ট্রফি জিতেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে।
জোসের ইনস্টাগ্রাম বায়োতেও রয়েছে একটি অনুপ্রেরণামূলক বার্তা—‘শুরু করার জন্য কখনোই দেরি হয় না।’ তার নিজের জীবনযাপনও যেন সেই কথারই উদাহরণ।
সম্প্রতি শেয়ার করা ভিডিওতে নিজের সকালের রুটিন তুলে ধরেছেন জোসে। তার দিন শুরু হয় সকাল ৬টার দিকে। ঘুম থেকে উঠে নাশতা করেন তিনি। নাশতায় থাকে দুই ডিমের অমলেট, পাউরুটি এবং ব্ল্যাক কফি।
নাশতা শেষে কিছু ঘরের কাজও করেন জোসে। এরপর দৌড়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। সকাল পৌনে ৭টার দিকে দৌড়ের পোশাক পরে বাইরে বের হন তিনি।
ভিডিওতে দেখা যায়, উজ্জ্বল গোলাপি টি-শার্ট, শর্টস, সাদা দৌড়ের জুতা, কালো সানগ্লাস এবং ধূসর রঙের ক্যাপ পরে দৌড় শুরু করেছেন জোসে।
জোসে এক গতিতে পুরো সময় দৌড়ান না। অনুশীলনের সময় বিভিন্ন গতিতে দৌড়াতে দেখা যায় তাকে। ভিডিওতে তার দৌড়ের কয়েকটি সময় ও গতি দেখানো হয়েছে।
সকাল ৭টা ১৬ মিনিটে একটি দৌড়ের গতি ছিল প্রতি কিলোমিটারে ৪ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড। এরপর ৭টা ৩২ মিনিটে প্রতি কিলোমিটারে ৩ মিনিট ৪ সেকেন্ড এবং ৭টা ৪১ মিনিটে ২ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড গতিতে দৌড়ান তিনি।
এরপর সকাল ৭টা ৪৯ মিনিটে প্রতি কিলোমিটারে ২ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড গতিতে দৌড়াতে দেখা যায় তাকে। পরে ৮টা ১১ মিনিটে আবার কিছুটা ধীর গতিতে প্রতি কিলোমিটারে ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড গতিতে দৌড়ান।
প্রায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শেষ হয় তার এই সকালের অনুশীলন।
৬৮ বছর বয়সে জোসের এমন দৌড়ের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা। বিশেষ করে তার দৌড়ের গতি দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।
কেউ কেউ মজা করে জানতে চেয়েছেন, ভিডিওটি আসল কি না। কয়েকজন সরাসরি প্রশ্ন করেছেন, এটি কি এআই দিয়ে তৈরি?
ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে একজন লিখেছেন, ‘বলুন তো, এটা এআই!’ আরেকজন মজা করে জানিয়েছেন, ভিডিওটি দেখে তার দাদারও মনে হয়েছে এটি এআই দিয়ে তৈরি।
কেউ আবার জোসের প্রশংসা করে বলেছেন, ভবিষ্যতে তারাও ৫০-এর দশকে এমন সক্রিয় জীবনযাপন করতে চান। অন্য একজন মজা করে বলেছেন, জোসের ভিডিও দেখেই তিনি ক্লান্ত হয়ে গেছেন।
তার দৌড়ের গতি নিয়ে নানা মজার মন্তব্যও এসেছে। কেউ কফিকেই তার গতির রহস্য বলে মন্তব্য করেছেন। আবার কেউ রসিকতা করে লিখেছেন, এত দ্রুত দৌড়ালে মনে হয় শহর বাঁচানোর দায়িত্বও তার!
নেটিজেনদের মজার মন্তব্যের বাইরে জোসে আগুইয়ার গল্পের মূল বার্তাটি বেশ ইতিবাচক। তিনি প্রমাণ করেছেন, নতুন কিছু শুরু করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়স নেই।
৫০ বছর বয়সে দৌড় শুরু করেছিলেন জোসে। এখন ৬৮ বছর বয়সেও নিয়মিত দৌড় ও অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তাও দেখাচ্ছে, বয়সের পরেও সক্রিয় জীবনযাপন মানুষের মধ্যে কতটা আগ্রহ তৈরি করতে পারে।
জোসের নিজের ইনস্টাগ্রাম বায়োর একটি বাক্যই যেন তার পুরো গল্পের সারকথা—‘শুরু করার জন্য কখনোই দেরি হয় না।’










































