২৭ দিন সাগরে ভাসা নৌকা উদ্ধার, ৮৩ অভিবাসীর মৃত্যুর আশঙ্কা

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে সাগরে ভাসতে থাকা অভিবাসীবাহী একটি নৌকা উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। নৌকাটি গত মাসে গাম্বিয়া থেকে যাত্রা করেছিল।

এতে থাকা ১২৭ জনের মধ্যে ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।

স্পেনের বেসরকারি সংস্থা ক্যামিনান্দো ফ্রন্তেরাসের (ওয়াকিং বর্ডার্স) প্রধান হেলেনা মালেনো জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে চার নারী ও একটি শিশুও রয়েছে।

যাত্রীরা পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া থেকে ২৭ দিন আগে যাত্রা শুরু করেছিলেন বলে জানান তিনি।

স্পেনের মেরিটাইম সেফটি অ্যান্ড রেসকিউ সোসাইটি (সাসেমার) সিএনএনকে জানিয়েছে, বুধবার রাতে একটি ‘অস্থায়ী নৌকা’ উদ্ধার করা হয়।

নৌকাটি গ্রান কানারিয়ার দক্ষিণ উপকূলের শহর আরগুইনেগুইনের ৬৫ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে সাগরে ভাসছিল।

সাসেমার জানায়, নৌকা থেকে ৪৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।তাদের হেলিকপ্টারে করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আরো পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উদ্ধার হওয়া সবাই সাব-সাহারান আফ্রিকার পুরুষ বলে জানিয়েছে সাসেমার। তবে গাম্বিয়া থেকে যাত্রার সময় নৌকাটিতে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি তারা।

ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেখভাল করা রেড ক্রসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা মালি অথবা সেনেগালের নাগরিক।তাদের মধ্যে কয়েকজন অপ্রাপ্তবয়স্কও রয়েছে।

রেড ক্রসের মুখপাত্র হোসে আন্তোনিও রদ্রিগেস ভেরোনা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, তীরে পৌঁছানোর পর উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা ছিলেন দিশেহারা ও পানিশূন্যতায় ভুগছিলেন। অনেকে সেখানে পৌঁছানোর পরই জ্ঞান হারান বা বমি করতে থাকেন।

তারা সাগরে ‘অনেক, অনেক দিন’ আটকে থাকার কথা জানিয়েছেন। কয়েকজনের ধারণা, প্রায় এক মাস ধরে তারা সাগরে ছিলেন। নৌকায় থাকা খাবার ও অন্যান্য সরবরাহ শেষ হয়ে গিয়েছিল। পরে সাগরের পানি পান করে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

রদ্রিগেস ভেরোনা বলেন, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে শুরুতে ১০০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন। তাদের মধ্যে নারী ও একটি শিশুও ছিল। যাত্রাপথে যারা মারা যান, তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। একপর্যায়ে জীবিতদের সেই কাজ করার মতো শক্তিও আর অবশিষ্ট ছিল না।

অভিবাসন নীতি নিয়ে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেসের ওপর চাপের মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল। জুলাইয়ে মাত্র দুই দিনে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে স্পেনের নিয়ন্ত্রিত সেউতা এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেন বলে ধারণা করা হয়।

ওই ব্যাপক সীমান্ত পারাপারের ঘটনায় স্পেনজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং ইতালির সঙ্গে স্পেনের কূটনৈতিক বিরোধও দেখা দেয়।

LEAVE A REPLY