সংগৃহীত ছবি
ধ্যান, যোগব্যায়াম, মেডিটেশন কিংবা বিভিন্ন ওয়েলনেস কার্যক্রম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু একজন শিক্ষার্থী যখন সাধারণ চাপের সীমা পেরিয়ে গুরুতর মানসিক সমস্যায় পড়েন, তখন এসব উদ্যোগ কি যথেষ্ট?
ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।
ভারতের আইআইটি ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে এই প্রশ্ন সামনে এসেছে। আইআইটি কানপুরের সঙ্গে ইসকনের একটি ওয়েলনেস কর্মসূচি নিয়ে বিতর্কের পর বিষয়টি আরো আলোচনায় আসে।
দুই বছরের ওই সমঝোতা স্মারকে স্বেচ্ছামূলকভাবে আত্ম-ব্যবস্থাপনা, মানসিক চাপ মোকাবেলা, ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও আত্মমর্যাদা বাড়ানোর মতো কার্যক্রমের কথা ছিল। পরে শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে উদ্যোগটির ঘোষণা সরিয়ে নেওয়া হয়।
তবে বিতর্কের চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো : মানসিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীর জন্য ক্যাম্পাসে আসলে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন?
ওয়েলনেস সহায়ক, চিকিৎসার বিকল্প নয়
ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. দিব্যা গণেশ নাল্লুরের মতে, মেডিটেশন, যোগব্যায়াম ও আধ্যাত্মিক চর্চা মানসিক সুস্থতা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু এগুলো মানসিক রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়।
হতাশা, উদ্বেগ, সাইকোসিস কিংবা গুরুতর মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে প্রয়োজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও প্রশিক্ষিত কাউন্সেলরের সহায়তা।
অর্থাৎ একজন সুস্থ শিক্ষার্থীর মানসিক স্থিতি ও চাপ মোকাবেলার সক্ষমতা বাড়াতে ওয়েলনেস কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ।কিন্তু কেউ যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন প্রয়োজন পেশাদার চিকিৎসা।
সমস্যা শুধু শিক্ষার্থীর নয়
শিক্ষার্থীদের মানসিক সংকটকে শুধু ব্যক্তিগত দুর্বলতা হিসেবে দেখাও ঠিক নয়। অতিরিক্ত একাডেমিক চাপ, প্রত্যাশা, একাকিত্ব এবং সামাজিক সহায়তার অভাব পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তুলতে পারে।
কাউন্সেলর ও পরামর্শদাতারা বলছেন, শিক্ষার্থীর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন—ঘুম বা খাওয়ার সমস্যা, সামাজিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া কিংবা ক্লাসে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া—এসব সতর্কসংকেত হতে পারে।
সব শিক্ষার্থী নিজে থেকে সাহায্য চাইতেও পারবেন, এমনটা ধরে নেওয়া যায় না।তাই শুধু কাউন্সেলিং সেন্টার খুলে শিক্ষার্থীদের সেখানে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকলে হবে না। প্রয়োজন এমন ব্যবস্থা, যেখানে শিক্ষক, সহপাঠী ও প্রতিষ্ঠানও প্রাথমিক সংকেতগুলো বুঝতে পারে।
ক্যাম্পাসে দরকার সমন্বিত ব্যবস্থা
একটি কার্যকর মানসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ওয়েলনেস কার্যক্রম থাকতে পারে। থাকতে পারে যোগব্যায়াম, মেডিটেশন, খেলাধুলা, সামাজিক কার্যক্রম ও পিয়ার সাপোর্ট।
কিন্তু এর পাশাপাশি সহজে পাওয়া যায় এমন প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞও প্রয়োজন। গুরুতর সংকটের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা ও জরুরি সহায়তার স্পষ্ট ব্যবস্থাও থাকতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মানসিক সমস্যাকে লুকানোর বিষয় হিসেবে না দেখে সাহায্য নেওয়াকে স্বাভাবিক করে তোলা।
ওয়েলনেস একজন শিক্ষার্থীকে চাপ সামলাতে সাহায্য করতে পারে। কাউন্সেলিং তাকে নিজের সমস্যা বুঝতে সহায়তা করতে পারে। আর গুরুতর মানসিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রয়োজন চিকিৎসা।
এই তিনটিকে একে অপরের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং একই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখাই জরুরি।
কারণ একটি মেডিটেশন সেশন মানসিক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু গুরুতর মানসিক সংকটে একজন শিক্ষার্থীর প্রয়োজন হতে পারে একজন প্রশিক্ষিত পেশাজীবীর সাহায্য।










































