রূপগঞ্জের বরপা প্রিমিয়ার স্টিল মিল যেন শ্রমিকের তপ্ত নরককুণ্ড। বারবার দুর্ঘটনা আর প্রাণহানির শিকার হলেও থামছে না এই কারখানার মৃত্যুর মহড়া।বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টা। লোহা গলানোর চুল্লির প্রচণ্ড তাপে অভ্যস্ত হাতগুলো হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে গেল চারপাশের অগ্নিশিখায়। ৪ জন মেহনতী মানুষ এক মুহূর্তে রূপ নিলেন পোড়া মাংসের স্তূপে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে যখন চার শ্রমিককে আনা হয়, তখনো তাদের শরীরে জ্বলছিল কারখানার অব্যবস্থাপনার আগুন।চিকিৎসকরা জানান, সজীব সরকারের দেহের ৭০ শতাংশই ঝলসে গেছে। বেঁচে থাকার লড়াইটা তার জন্য এখন ভীষণ কঠিন। ২৫ শতাংশ দগ্ধ রুবেল আহমেদ, ২০ শতাংশ দগ্ধ নাজমুল এবং ১০ শতাংশ দগ্ধ ১৯ বছরের তরুণ আবির হোসেনের শরীরেও রয়ে গেছে আগুনের নির্মম ছাপ। হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন এই চার জীবনযোদ্ধা।
তবে প্রিমিয়ার স্টিল মিলে এ দৃশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও বারবার এই একই কারখানায় ঘটেছে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড ও লোহা গলানোর চুল্লি বিস্ফোরণ। প্রতিবার দুর্ঘটনার পর তদন্তের আশ্বাস মিললেও শ্রমিক সুরক্ষার ব্যবস্থা থেকে গেছে কাগজে-কলমেই। মালিকপক্ষের বেপরোয়া মনোভাব আর নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম উদাসীনতাই যে এই দুর্ঘটনাগুলোর মূল চালিকাশক্তি, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
লোহা গলে রড তৈরি হয় ঠিকই, কিন্তু সেই রডের গা ঘেঁষে লেগে থাকে সজীব, রুবেলদের তাজা রক্ত ও পোড়া চামড়া।একটি কারখানায় বারবার একই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে থাকা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়—নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে কীভাবে মুনাফার আগুনে বলিকাঁঠ করা হচ্ছে সাধারণ শ্রমিকের জীবন। প্রশ্ন ওঠে, আর কত শ্রমিকের দেহ আগুনে পুড়লে চোখ খুলবে কর্তৃপক্ষের?






































