খুলনা সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কক্সবাজারে গুলিতে নিহত গোলাম রব্বানী টিপুর বাসায় অভিযান চালিয়ে তার বড় ভাই গোলাম রসুলকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় ১৪১ রাউন্ড পয়েন্ট টু-টু বোরের গুলি, ১৩ রাউন্ড ১২ বোরের শটগানের গুলি ও একটি দুই ধারবিশিষ্ট চাকু উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানার উত্তর দেয়ানা এলাকার হোসেন শাহ রোডের ২১২ নম্বর বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গোলাম রসুলের শয়নকক্ষের স্টিলের আলমারি থেকে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়। সেগুলো জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি ও উদ্ধার করা মালামাল ডিবি হেফাজতে রয়েছে।তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত গোলাম রসুল বাদশা নিহত গোলাম রব্বানীর টিপুর বড় ভাই। তিনি একটি পত্রিকার খুলনা প্রতিনিধি এবং শিক্ষকতা করেন বলেও জানা যায়।
গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশকে জানান, অস্ত্রের লাইসেন্স আছে, কিন্তু গুলির কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি। গুলি নাকি টিপুর রেখে যাওয়া সেটিও দাবি করেন গোলাম রসুল।
গোলাম রব্বানী টিপু খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ছিলেন। গত বছর (২০২৫) ৯ জানুয়ারি রাতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে হোটেল সি-গালের সামনের ফুটপাতের কাছে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন তার ভগ্নিপতি ইউনুস আলী শেখ বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে প্রথমে খুলনা সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শেখ হাসান ইফতেখার ওরফে চালু এবং কক্সবাজারের টেকপাড়ার বাসিন্দা মেজবাউল হক ওরফে ভুট্টোকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১৪ জানুয়ারি মৌলভীবাজার থেকে ঋতু (২৪), শেখ শাহরিয়ার ইসলাম ওরফে পাপ্পু (২৭) ও গোলাম রসুল (২৫) নামে আরো তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পাপ্পুর চাচা শহীদুল ওরফে হুজি শহীদ হত্যার প্রতিশোধ নিতে টিপুকে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে ঋতুকে টিপুর অবস্থান শনাক্ত ও গতিবিধির তথ্য দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা জানান। পাপ্পু ও তার সহযোগী গোলাম রসুলের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা
হয়েছিল বলে পুলিশ জানায়।
টিপু হত্যাকাণ্ডের পর কক্সবাজারে তার সঙ্গে থাকা আরেক সাবেক কাউন্সিলর শেখ হাসান ইফতেষার চালুর সফর নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে ওই সময় জানা যায়, টিপু ও চালু ঢাকা থেকে একসঙ্গে কক্সবাজারে যান এবং একই দিন সকালে শহরের গোল্ডেন হিল হোটেলে ওঠেন। হোটেলের নথিতে টিপুর কক্ষে এক নারীর অবস্থানের তথ্যও পাওয়া যায়। সিসিটিভি ফুটেজে হত্যার দিন সন্ধ্যায় ওই নারীর সঙ্গে টিপুকে হোটেল থেকে বের হতে
দেখা যায় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
হত্যাকাণ্ডের পর শেখ হাসান ইফতেখার চালু ও টিপুর বন্ধু মেজবাউল হক ভুট্টোকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে কক্সবাজারে তাদের যাওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশের তদন্তে কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এসেছে তা জানা যায়নি।
গোলাম রব্বানী টিপু সর্বশেষ খুলনা সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে অন্য সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের সঙ্গে অপসারণ করে। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।










































