নাত্তো থেকে হংগো, বিশ্বের ৭ দেশের অদ্ভুত ৭ খাবার

ছবি: পিন্টারেস্ট

একেক দেশের খাবারের ধরন একেক রকম। কোনো খাবার স্বাদ ও গন্ধের জন্য জনপ্রিয়, আবার কোনোটি তৈরি হয় এমন পদ্ধতিতে, যা অন্য দেশের মানুষের কাছে বেশ অস্বাভাবিক মনে হতে পারে।জাপানের আঠালো গাঁজানো সয়াবিন থেকে আইসল্যান্ডের গাঁজানো হাঙর—বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন কিছু খাবার রয়েছে, যা স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয়। বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে জেনে নেওয়া যাক বিভিন্ন দেশের এমন সাতটি ব্যতিক্রমী খাবারের কথা।

f

১. জাপানের নাত্তো

জাপানের ঐতিহ্যবাহী খাবার নাত্তো তৈরি করা হয় গাঁজানো সয়াবিন দিয়ে। এর গঠন আঠালো, গন্ধ বেশ তীব্র এবং স্বাদও অন্য রকম।প্রথমবার খেলে অনেকের কাছেই খাবারটি অচেনা মনে হতে পারে। তবে জাপানে ভাতের সঙ্গে নাত্তো খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। এতে প্রোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানও পাওয়া যায়।

f

২. চীনের সেঞ্চুরি এগ

নাম শুনে শত বছরের পুরোনো ডিম মনে হলেও সেঞ্চুরি এগ আসলে বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা ডিম।হাঁস, মুরগি কিংবা কোয়েলের ডিম প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয় এই খাবার। এতে ডিমের সাদা অংশ গাঢ় রঙের এবং কুসুম সবুজাভ ও ক্রিমের মতো হয়ে যায়। চীনা খাবারে এটি বেশ পরিচিত। সাধারণত ভাতের জাউ, টোফু কিংবা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।

gg

৩. আইসল্যান্ডের গাঁজানো হাঙর

আইসল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী খাবার হাকার্ল তৈরি করা হয় গ্রিনল্যান্ড হাঙরের মাংস থেকে।মাংসটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় গাঁজিয়ে পরে শুকানো হয়। খাবারটির তীব্র গন্ধ ও ঝাঁজালো স্বাদের কারণে এটি অনেকের কাছে বেশ অস্বাভাবিক। গ্রিনল্যান্ড হাঙরের কাঁচা মাংসে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা যথাযথ প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া খাওয়া নিরাপদ নয়। তাই এই খাবার তৈরিতে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

6

৪. সার্ডিনিয়ার ক্যাসু মারজু

ইতালির সার্ডিনিয়া অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পনির ক্যাসু মারজু তৈরি হয় বিশেষ প্রক্রিয়ায়। এই পনিরের সঙ্গে জীবিত পনির-মাছির লার্ভার সম্পর্ক রয়েছে। লার্ভা পনিরের উপাদান ভেঙে এর গঠন অত্যন্ত নরম করে তোলে। ব্যতিক্রমী তৈরিপদ্ধতির কারণে খাবারটি পরিচিত হলেও এটি নিয়ে খাদ্যনিরাপত্তার উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় এর বিক্রি ও উৎপাদনের ওপর আইনি বিধিনিষেধও আছে।

একা ভ্রমণে নারীর জন্য ১০ নিরাপদ দেশ

f

৫. ফিলিপাইনের বালুত

ফিলিপাইনের জনপ্রিয় পথখাবার বালুত। এটি নিষিক্ত হাঁসের ডিম, যার মধ্যে বিকাশমান ভ্রূণ থাকে। ডিমটি সেদ্ধ করে খাওয়া হয়। স্বাদ বাড়াতে অনেকে এর সঙ্গে লবণ বা ভিনেগার ব্যবহার করেন। খাবারটির চেহারা বিদেশি পর্যটকদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। তবে ফিলিপাইনসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অঞ্চলে এটি পরিচিত ঐতিহ্যবাহী খাবার।

ন

৬. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডুরিয়ান

ডুরিয়ান একটি কাঁটাযুক্ত ফল, যা এর তীব্র ও স্বতন্ত্র গন্ধের জন্য পরিচিত। কেউ এর গন্ধ ও স্বাদ পছন্দ করেন, আবার কারও কাছে তা অসহনীয় মনে হতে পারে। শক্ত খোসার ভেতরে থাকে নরম, ক্রিমের মতো শাঁস। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ফলটি জনপ্রিয়। সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি এটি দিয়ে নানা ধরনের মিষ্টি ও ডেজার্ট তৈরি করা হয়। তীব্র গন্ধের কারণে কিছু গণপরিসরে ডুরিয়ান বহনে বিধিনিষেধ রয়েছে।

y67

৭. দক্ষিণ কোরিয়ার হংগো

দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যতিক্রমী খাবার হংগো তৈরি করা হয় এক ধরনের সামুদ্রিক মাছ স্কেট গাঁজিয়ে। গাঁজনের সময় এতে অ্যামোনিয়ার মতো তীব্র গন্ধ তৈরি হয়। ঝাঁজালো গন্ধ ও স্বাদের কারণে খাবারটি সবার পছন্দ নাও হতে পারে। কোরিয়ায় ঐতিহ্যগতভাবে হংগো সেদ্ধ শূকরের মাংস ও কিমচির মতো খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।

খাবারের বৈচিত্র্যে আলাদা সংস্কৃতি

বিশ্বের একেক অঞ্চলে খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও তৈরির পদ্ধতি স্থানীয় ঐতিহ্য, পরিবেশ এবং খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। কোনো খাবার এক জায়গায় অস্বাভাবিক মনে হলেও অন্য অঞ্চলের মানুষের কাছে তা পরিচিত ও পছন্দের। নাত্তোর আঠালো গঠন থেকে হাকার্লের তীব্র গন্ধ—এসব খাবার সেই বৈচিত্র্যেরই উদাহরণ।কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো

LEAVE A REPLY