মন্ত্রী-সরকারি কর্মকর্তাদের সামরিক প্রশিক্ষণে পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী!

সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শৃঙ্খলা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়াতে নজিরবিহীন এক পদক্ষেপ নিয়েছে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। দেশটির পুরো মন্ত্রিসভাসহ সরকারের শীর্ষ পদস্থ কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণে পাঠিয়েছেন তিনি।এমন ঘটনা সাধারণ বেসামরিক কর্মকর্তাদের জন্য অত্যন্ত বিরল ঘটনা হলেও, প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রী ও সরকারের শীর্ষ পদস্থ কর্মকর্তাদের এই কড়া অনুশীলনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন। 

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির হুরসো সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চলছে। প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ শুধুমাত্র নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তিনি নিজেও সামরিক পোশাকে মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কঠিন সব শারীরিক কসরত ও মহড়ায় অংশ নিয়েছেন। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, তাঁর সাথে এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন ইথিওপিয়ার হাউস অব ফেডারেশনের স্পিকার মুফেরিয়াত কামিল, অর্থমন্ত্রী ফিতসুম আসেফা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মেকদেস দাবার মতো শীর্ষ রাজনীতিকরা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে এই সামরিক প্রশিক্ষণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জানিয়েছে, ইথিওপিয়ার সার্বিক উন্নয়ন ও সভ্যতা বিনির্মাণের জন্য এমন এক নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন, যারা শারীরিকভাবে দক্ষ, মানসিকভাবে দৃঢ় এবং প্রজ্ঞায় পরিপক্ব। 

প্রধানমন্ত্রীর মতে, সামরিক বিজ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে দলগত সমন্বয়, দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা এবং গভীর দেশপ্রেম জাগ্রত করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

ক্ষমতাসীন ‘প্রসপারিটি পার্টি’র এই শীর্ষ নেতাদের ওয়ান-টাইম বাধ্যতামূলক এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঠিক কবে শুরু হয়েছে বা কতদিন ধরে চলবে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কিছু স্পষ্ট করা হয়নি। 

তবে প্রশাসনের বেসামরিক কর্মকর্তাদের এভাবে সামরিকীকরণের দিকে নিয়ে যাওয়া এবং কড়া শাসনের প্রভাব তৈরি করার এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

LEAVE A REPLY