ছবি : রয়টার্স
দক্ষিণ জাপান থেকে তাইওয়ান হয়ে ফিলিপাইনের উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত সমুদ্র এলাকায় চীনের ৫০টিরও বেশি নৌবাহিনী ও সরকারি জাহাজ চলাচল করছে। তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, এই তৎপরতা থেকে তৈরি হওয়া হুমকি স্পষ্ট। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। এ পরিস্থিতিতে চীনা যুদ্ধজাহাজ ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজগুলোর চলাচলের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও মানচিত্র প্রকাশের উদ্যোগ জোরদার করেছে তাইওয়ান।
তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ বলেন, ‘আমরা তাদের তৎপরতার ওপর সতর্ক নজর রাখছি।তাইওয়ান, জাপান ও ফিলিপাইনের জন্য একই সঙ্গে যে হুমকি তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট।’
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টের সঙ্গে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন তিনি। ওই মানচিত্রে চীনের ৫৩টি জাহাজের অবস্থান দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি ছিল নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ।এসব জাহাজের মধ্যে চীনের বিমানবাহী রণতরি ‘লিয়াওনিং’ও রয়েছে।
মানচিত্র অনুযায়ী, লিয়াওনিং ও এর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো ফিলিপাইনের পূর্বে অবস্থান করছিল। এ ছাড়া তাইওয়ানের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কয়েকটি জাহাজের দল এবং জাপানের দক্ষিণ উপকূলের কাছে আরো তিনটি দল অবস্থান করছিল। এর আগে গত মে মাসেও জোসেফ উ এক্সে একই ধরনের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাং জিয়াওগ্যাং বলেন, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে বিমানবাহী রণতরি ‘লিয়াওনিং’-এর প্রশিক্ষণ একটি নিয়মিত বার্ষিক কার্যক্রম।এর মাধ্যমে দূর সমুদ্রে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়।
তিনি দাবি করেন, এই মহড়া কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে না। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও ফিলিপাইন ও জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
চীনা যুদ্ধজাহাজের চলাচল
বুধবার জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার কিউশু দ্বীপের কাছে সরু ওসুমি প্রণালি দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশের সময় তারা চীনের তিনটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজের চলাচল পর্যবেক্ষণ করেছে। চলতি মাসের শুরুতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছিল, লিয়াওনিং একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। এই মহড়া কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে না।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জাপান ও ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। তাইওয়ানের প্রতি জাপানের সমর্থনে অসন্তুষ্ট বেইজিং। অন্যদিকে দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের বিরোধও ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার তাইপেতে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু। তিনি বলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা আমরা সমর্থন করি না।’
তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফিলিপাইন সাগরে সামরিক মহড়া শেষ করার পর চীনের বিমানবাহী রণতরি ‘লিয়াওনিং’ ও এর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো জাপানের দিকে উত্তরমুখী যাত্রা চালিয়ে যায় কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যদি জাহাজগুলো উত্তর দিকে এগোতে থাকে, তাহলে তা জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আরো চাপ সৃষ্টির ইঙ্গিত দেবে।’
প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথ খোলা রেখেছে চীন
তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথ কখনোই পুরোপুরি বন্ধ করেনি চীন। তবে বেইজিং বলে আসছে, তারা সামরিক পদক্ষেপের বদলে শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলনকেই বেশি গুরুত্ব দেয়।
মার্কিন সামরিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী এই আশঙ্কা মাথায় রেখে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রস্তুতি নিচ্ছে যে, আগামী বছরের শুরুতেই চীন তাইওয়ানে হামলা চালাতে পারে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার রোনাল্ড ক্লার্ক মঙ্গলবার হাওয়াইয়ের একটি ফোরামে এ কথা বলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্লার্কের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু বলেন, নিজেদের প্রতিরক্ষা ও হামলা প্রতিরোধের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে তাইওয়ান।










































