ছাত্র আন্দোলনে অংশ না নেওয়া নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন পাঞ্জাবি গায়ক ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ। এবার দিল্লির এক কনসার্টে সেই সমালোচনার জবাব দিলেন তিনি।তার স্পষ্ট বক্তব্য, পাঞ্জাবিদের কীভাবে লড়াই করতে হয়, তা যেন কেউ শেখাতে না আসে। দিলজিতের মন্তব্যের পর পুরোনো বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ‘অরা ইন্ডিয়া ট্যুর ২০২৬’-এর প্রথম কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করেন দিলজিৎ। সেখানেই ছাত্র আন্দোলন ঘিরে আগের বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি।যদিও বক্তব্যে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি এই গায়ক।
দর্শকদের উদ্দেশে দিলজিৎ বলেন, ‘আমি তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি, কারণ আমি একজন শিল্পী। আমি চুপ আছি, তাই আমাকে চুপ থাকতে দাও। আমি তোমাদের সবাইকে সমর্থন করি।কিন্তু পাঞ্জাবিদের কীভাবে লড়াই করতে হয়, তা শেখাতে এসো না।’
কনসার্টে নিজের অভিনীত ‘সতলুজ’ ছবিটি নিয়েও কথা বলেন দিলজিৎ। মানবাধিকারকর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরার জীবন ও কাজের ওপর নির্মিত ছবিটি নিয়ে মঞ্চে উপহাস করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে গায়ক বলেন, ‘যে ছবিটি নিয়ে তোমরা মঞ্চে মজা করছ, জসওয়ন্ত সিং খালরার সেই ছবির জন্য আমরা দীর্ঘদিন লড়াই করেছি।’
ছবিটি নিয়ে সমালোচনার জবাবে দিলজিৎ আরও বলেন, কেউ তাকে অপছন্দ করলেও সবার প্রতি তার ভালোবাসা রয়েছে।
‘সতলুজ’ পরিচালনা করেছেন হানি ত্রেহান। ছবিটির আগের নাম ছিল ‘পাঞ্জাব ’৯৫’। আশির দশকের শেষ ও নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে পাঞ্জাবে সংঘটিত কথিত বেআইনি হত্যাকাণ্ড এবং গোপনে মৃতদেহ দাহের ঘটনা সামনে আনার চেষ্টা করেছিলেন মানবাধিকারকর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরা। ছবিতে তার সেই কাজ ও সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
চলতি বছরের জুনে পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনে দিলজিতের অংশ না নেওয়া নিয়ে সমালোচনা করেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ দলের কয়েকজন সদস্য।
এর আগে ইনস্টাগ্রাম লাইভে দিলজিৎ বলেছিলেন, তিনি একজন শিল্পী, রাজনীতিক নন। তাই তাকে রাজনৈতিক আন্দোলন থেকে দূরে রাখার অনুরোধ জানান। তাঁর এই মন্তব্যে হতাশ হন আন্দোলনকারীদের একাংশ।
অন্যদিকে, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ‘সতলুজ’ ছবির সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি তুলে ধরে দিলজিতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দীপকে।
দিলজিতের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ বার্তা প্রকাশ করেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা। সেখানে তিনি জানান, জুনের আন্দোলনের সময় দিলজিতের বক্তব্যে কিছুটা কষ্ট পেয়েছিলেন। তবে তার প্রতিক্রিয়ার পেছনে গায়কের প্রতি কোনো ব্যক্তিগত বিরাগ ছিল না।
দীপকে লেখেন, ‘পাজি, জুনে যখন আমরা আন্দোলন করছিলাম, তখন আপনার মন্তব্যে আমি কিছুটা কষ্ট পেয়েছিলাম। আপনার প্রতি ব্যক্তিগত কোনো বিরাগ থেকে নয়। বরং আমি সব সময় আপনাকে এমন একজন মানুষ হিসেবে দেখেছি, যিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।’
দিলজিতের প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথাও জানান তিনি। দীপকে বলেন, এখনো তিনি দিলজিতের গান শোনেন। এমনকি ভারতে ফেরার আগে মে মাসে শিকাগোতে দিলজিতের কনসার্টেও উপস্থিত ছিলেন।
গায়কের সাহস, স্বকীয়তা এবং নিজের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে ভারতীয় সংগীতকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার প্রশংসা করেন দীপকে। তিনি আরো লেখেন, ‘একটি মতবিরোধ বা ভুল বোঝাবুঝি আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বদলে দিতে পারে না।’
বিরোধের অবসান চেয়ে দীপকে লেখেন, ‘বাকি পাজি, ছোট ভাই মনে করে মাফ করে দিন।’
দিলজিতের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অটুট থাকার কথা জানিয়ে পুরোনো মতবিরোধ পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে দিল্লির কনসার্টের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দিলজিতের ‘অরা ইন্ডিয়া ট্যুর ২০২৬’। এই সফরে ভারতের বিভিন্ন শহরে সংগীত পরিবেশনের কথা রয়েছে তার।











































