মক্কা চুক্তিতে যোগ দিচ্ছে ইরান?

চলমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রচ্যে নিরাপত্তার লক্ষ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানের যোগ দেয়া নিয়ে নানান জল্পনা-কল্পনা রয়েছে আন্তজার্তিক মহলে। তবে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ এই চুক্তিতে যোগ দেয়ার বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেনি তেহরান।

সাম্প্রতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির’ দুয়ার সবার জন্য উন্মুক্ত বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেয়ারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। তিনি বলেন, চুক্তির তিন পক্ষের রাজনৈতিক নেতৃত্ব চাইলে ইরানও এর অংশ হতে পারে। 

মক্কা চুক্তিতে ইরান যোগ দিতে পারে কি না–এমন প্রশ্নের জবাবে জেনারেল চৌধুরী বলেন, ‘যাদেরই সম্মিলিত প্রতিরোধ ও আঞ্চলিক শান্তির বিষয়ে একই মনোভাব রয়েছে, তারা কেন নয়? সবাইকে স্বাগতম।’ 

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনটি মূল দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।সম্প্রতি মক্কা চুক্তির তিন দেশের প্রতিনিধিরা তেহরান সফর করেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন সেখানে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

মূলত এরপর থেকেই মক্কা চুক্তিতে ইরানের যোগ দেয়া নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়। তবে ইরান এই চুক্তিতে যোগ দেয়ার বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেনি।তবে এই চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ইরানের একজন আইনপ্রণেতা বলেছিলেন, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে ‘কাগুজে চুক্তি’ সৌদি আরবকে নিরাপত্তা দেবে না। 

এদিকে মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে আরও পাকিস্তানি সেনা পাঠানো হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চৌধুরী বলেন, তা পরিস্থিতি এবং উভয় দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। সৌদি আরব এবং পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরীর রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পাকিস্তান। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের অংশ নই।’

LEAVE A REPLY