বড় ধরনের ব্যাংকিং সংকটের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, বেসরকারি উয়েনো ব্যাংকের আর্থিক বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে দেশটিতে এ সংকট তৈরি হয়েছে।ব্যাংকটির হাজারো গ্রাহক তাদের জমা রাখা টাকা তুলতে পারছেন না। এ ঘটনায় পেনার ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় পেনা বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার স্বার্থে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ব্যাংকিং সংকটে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে পেনা বলেন, আর্থিক ব্যবস্থায় মানুষের জমা রাখা অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তা ফেরত দেওয়াই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘আমার এখন একটাই অগ্রাধিকার। তা হলো, যেসব নাগরিক আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে তাদের সঞ্চয়ের টাকা জমা রেখেছেন, তাদের দুশ্চিন্তা দূর করা।’ নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে তাদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন পেনা।
তিনি বলেন, প্যারাগুয়ের জন্য কাজ করার দৃঢ় সংকল্প নিয়েই তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতির বিচার ইতিহাসই করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক চাপ বাড়ার মধ্যেই পেনা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর আগে দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ এক বিশেষ অধিবেশনে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে সর্বসম্মতিক্রমে ভোট দেয়।
বিরোধী দলের ৩৫ জন আইনপ্রণেতা এবং ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন ভিন্নমতাবলম্বী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের অভিযোগ, পেনা ‘গুরুতর ও ধারাবাহিকভাবে নিজের দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন’। এখন অভিশংসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে, নাকি তার পদত্যাগ গ্রহণ করা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে দেশটির সিনেট। এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে বেসরকারি উয়েনো ব্যাংক।
ব্যাংকটির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট পেনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তার শাসনামলে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংকটিতে কোটি কোটি ডলার জমা রাখা হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থা আইপিএসও রয়েছে। সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আর্থিক হিসাব সংশোধনের পর উয়েনো ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার হার নির্ধারিত সর্বনিম্ন সীমার অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে।
ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থা স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এসব হিসাব সংশোধন করা হয়। প্রায় ৬১ লাখ মানুষের দেশ প্যারাগুয়েতে উয়েনো ব্যাংকের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ২৯ লাখ। ব্যাংকটির কার্যক্রম বন্ধ বা বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর হাজারো আমানতকারী তাদের জমানো টাকা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ২০২৩ সালের আগস্টে পাঁচ বছরের মেয়াদে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন সান্তিয়াগো পেনা।











































