ছবি : হ্যারি কেইনের ফেসবুক থেকে
ক্লাব ও দেশের হয়ে অসংখ্য রেকর্ড গড়লেও হ্যারি কেইনের ক্যারিয়ারে একটি বড় অভিযোগ ছিল—তিনি কখনো কোনো ট্রফি জিতেননি। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো! বায়ার্ন মিউনিখের বুন্দেসলিগা জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড অধিনায়ক প্রথমবারের মতো শিরোপা স্পর্শ করলেন।
শনিবার লিপজিগের বিপক্ষে ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠে নামতে পারেননি কেইন। গ্যালারি থেকে খেলা দেখতে হয়েছিল তাকে।
সেই ম্যাচে বায়ার্ন জয় পেলে শিরোপা নিশ্চিত হতো, কিন্তু শেষ সময়ে লিপজিগের গোল সেই উদযাপন একদিনের জন্য পিছিয়ে দেয়।
অবশেষে রবিবার বায়ার লেভারকুসেন ২-২ গোলে ড্র করে ফ্রেইবুর্গের বিপক্ষে, আর তাতেই নিশ্চিত হয় বায়ার্ন মিউনিখের শিরোপা জয়। কেইনসহ বায়ার্নের খেলোয়াড়রা ম্যাচটি দেখছিলেন একসঙ্গে। খেলা শেষ হতেই সবাই মিলে ‘We are the champions’ গান গেয়ে উদযাপন করেন, যার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন কেইন নিজেই।
৩১ বছর বয়সী কেইনের এটি পেশাদার ক্যারিয়ারের প্রথম শিরোপা। অবশেষে নিজের ঝুলিতে একটি ট্রফি যোগ করে সমালোচকদের জবাব দিলেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
টটেনহামের হয়ে ৩টি, ইংল্যান্ডের হয়ে ২টি এবং বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ১টি—মোট ৬টি ফাইনাল হারার পর অবশেষে সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে, বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে পেলেন নিজের প্রথম বড় শিরোপা।
এই শিরোপা বায়ার্নের ৩৪তম হলেও কেইনের জন্য একেবারে বিশেষ।
বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কম্পানিও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তাকে, ‘একজন শীর্ষ তারকা যখন একজন তরুণ খেলোয়াড়ের মতো দৌড়ায়, লড়াই করে—তখন সেটা গোটা দলের জন্য দারুণ অনুপ্রেরণা। আমি ওর বিপক্ষে খেলেছি, বয়স বাড়লেও সে আরো পরিপক্ব হয়েছে।’
২০২২ সালে রবার্ট লেভানদোস্কি বায়ার্ন ছাড়ার বুন্দেসলিগার রেকর্ড সাইনিং হয়ে ক্লাবটিতে যোগ দেন কেইন। বায়ার্ন মিউনিখে পা রাখার পর থেকেই আলোচনায় হ্যারি কেইন। ক্লাবটির ইতিহাসে রবার্ট লেভানদোস্কির মতো কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে নাম্বার নাইনের জার্সি গায়ে চাপানোটা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।তবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক সেই চ্যালেঞ্জকে রূপ দিয়েছেন সুযোগে—নৈপুণ্যে, পেশাদারিত্বে এবং নেতৃত্বে।
২০২২ সালে রবার্ট লেভানদোস্কি বায়ার্ন ছাড়ার পর শূন্য হয়ে পড়া নাম্বার নাইনের জায়গাটি পূরণ করাই ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই জায়গায় রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে যোগ দেন হ্যারি কেইন। বায়ার্নে আসার পর থেকেই তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। লেভানদোস্কির মতো কিংবদন্তির উত্তরসূরি হওয়াটা সহজ ছিল না, তবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক সেই চ্যালেঞ্জকে নিজের সুযোগে পরিণত করেছেন। মাঠে নৈপুণ্য, পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বগুণে খুব অল্প সময়েই তিনি বায়ার্নের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন হ্যারি কেইন। বুন্দেসলিগায় এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৪ গোল করে গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার গোল সংখ্যা ৩৬, যার মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগেই করেছেন ১১টি গোল।
এপ্রিল মাসে কেইন গড়েছেন একটি অসাধারণ মাইলফলক। মাত্র ৬০ ম্যাচে বুন্দেসলিগায় ৬০ গোল করে ভেঙেছেন আর্লিং হালান্ডের আগের রেকর্ড, যেটি তিনি ছুঁয়েছিলেন ৬৫ ম্যাচে। শুধু গোলই নয়—এই সময়ে কেইন করেছেন ১৫টি অ্যাসিস্টও। অর্থাৎ, প্রতি ৭২ মিনিটে সরাসরি গোল কিংবা অ্যাসিস্টে অবদান রেখেছেন তিনি।










































