নেইমার জুনিয়র
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে নেইমারের থাকা নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল। চোটে জর্জরিত ৩৪ বছর বয়সী এই তারকার ফর্ম ও ফিটনেস নিয়ে সংশয়ও কম ছিল না।তবু ব্রাজিল সমর্থকদের বড় একটি অংশের কাছে নেইমারের উপস্থিতি মানে শুধু একটি ফুটবলীয় সিদ্ধান্ত নয়, বরং ২৪ বছরের বিশ্বকাপ খরার বিপরীতে এক আশার প্রতীক।
মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচে কাফ ইনজুরির কারণে মাঠে নামতে পারেননি ব্রাজিল দলের এই প্রাণভোমরা। বেঞ্চে বসেই দলের খেলা দেখতে হয়েছে তাকে। তবু ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন এই তারকা ফুটবলার।
স্টেডিয়ামে উপস্থিত ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের অনেকেই নেইমারের জার্সি গায়ে এসেছিলেন। তাদের মতে, ব্রাজিল দলে নেইমারের মতো একজন তারকার উপস্থিতি প্রয়োজন, যিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। অনেকের চোখে নেইমার এখনো দলের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার নাম।
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে বেশ চাপে ছিল ব্রাজিল।মাঝমাঠে আধিপত্য হারিয়ে বারবার সমস্যায় পড়তে হয় সেলেসাওদের। এমনকি প্রথমার্ধে গোলও হজম করে তারা। পরে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে সমতায় ফেরে ব্রাজিল এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ ড্র হয়।
ম্যাচজুড়ে ব্রাজিলের আক্রমণে সৃজনশীলতার ঘাটতি স্পষ্ট ছিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কিছু মুহূর্তে জাদুকরী ফুটবলের ঝলক দেখালেও তার পাশে পর্যাপ্ত সহায়তার অভাব চোখে পড়েছে।আর সেখানেই বারবার সামনে এসেছে নেইমারের নাম।
ব্রাজিলের ইতিহাসে পেলে, রোনালদো, রোনালদিনহো কিংবা কাকার মতো কিংবদন্তিদের উত্তরসূরি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিবেচিত হয়ে আসছেন নেইমার। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এখনো অপূর্ণ। তাই অনেক সমর্থকের বিশ্বাস, এই বিশ্বকাপেই হয়তো তার অসমাপ্ত গল্পের শেষ অধ্যায় লেখা হতে পারে।
মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামতে না পারলেও ম্যাচ শেষে নেইমারকে ঘিরে ছিল ভক্ত ও খেলোয়াড়দের ব্যাপক আগ্রহ। ব্রাজিল ও মরক্কো উভয় দলের খেলোয়াড়রাই তার সঙ্গে দেখা করতে এগিয়ে আসেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শিরোপা-স্বপ্ন এখনো অটুট। আর সেই স্বপ্নপূরণে চোট কাটিয়ে নেইমারের মাঠে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে ব্রাজিল সমর্থকেরা।








































