সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পূরণের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিদেশে ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় দেওয়া এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান বন্ধ করতে ওয়াশিংটন স্বতঃস্ফূর্ত অঙ্গীকার রক্ষা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছে তেহরান।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ তোলেন তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আলী আকবর দারেইনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দায়িত্ব রয়েছে কোনো শর্ত ছাড়াই দ্রুত ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্ত করার। কিন্তু ওয়াশিংটন সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। এ বিষয়ে দারেইনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কোনো শর্ত ছাড়াই ইরানের জব্দ করা সম্পদ অবিলম্বে ছাড়তে বাধ্য।কিন্তু তারা তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করেনি।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি দুটি ধাপে বিভক্ত উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রথম ধাপে রয়েছে পারস্পরিক আস্থা তৈরির পদক্ষেপ এবং দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে একটি চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে না। এর ফলে চলমান আলোচনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে দাবি করেছেন ইরানি এই গবেষক।তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কী করছে তা লক্ষ্য করুন। সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের পক্ষ থেকে এবং ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু তারা ইসরায়েল ও লেবাননের সঙ্গে আলাদা একটি চুক্তি করেছে, যা ওই সমঝোতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
এ ধরনের পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকটি আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে না। দারেইনি আরো অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থ আটকে রেখেছে এবং এখন সেই অর্থকেই আলোচনার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
এর আগে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরানের জব্দ সম্পদ, নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক বিষয়গুলো বৃহত্তর কূটনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অর্থ ছাড়, আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ—এই তিনটি বিষয় বর্তমানে চলমান আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।











































