বিমান হামলা চালিয়ে ইরানকে কাবু করতে না পারা যুক্তরাষ্ট্র কি এবার স্থল অভিযান চালাবে এমন প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। এ অবস্থায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় এক জেনারেল যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘যদি কোনো মার্কিন সেনা ইরানে পা রাখে, তবে আমরা তাদের নির্মূল করব।’ তিনি কঠোর প্রতিরোধের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার বার্তা দেন।
কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী জাহানশাহি বলেন, ‘ইরানি সেনাবাহিনীর স্থল বাহিনী পূর্ণ যুদ্ধপ্রস্তুতি বজায় রেখেছে; তারা দেশের সীমান্ত কঠোরভাবে পাহারা দেওয়ার পাশাপাশি শত্র“র গতিবিধি ও সম্ভাব্য হুমকিগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।’ রোববার আল জাজিরা এ খবর জানায়।
তার এ বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন ৬০ দিনের সমঝোতা ভেঙ্গে ১৪ দিনের টানা হামলার পর তা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেইসঙ্গে ইরানকে কাবু করতে নানা কৌশলের অনুসন্ধান করে চলেছে তারা। এ অবস্থায় মার্কিন বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের প্রধান জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, বিমান হামলা চালিয়ে ইরানকে হারানো যাবে না। প্রশ্ন উঠছে, ইরানকে হারাতে কি স্থল অভিযানের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র? আগে এ ধরনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কেউ কেউ মনে করেন, অনিশ্চিত আচরণের জন্য পরিচিত ট্রাম্প যে কোনো সময় যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তবে আলোচনা ও কূটনৈতিক সমাধানকে সর্বাগ্রে রাখছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, এ পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর পথে হাঁটতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইলের হয়ে যুদ্ধে নেমে তারা হয়তো আরও বড় ক্ষতিকে গ্রহণ করতে রাজি না-ও হতে পারে। এ অবস্থায় তাদের সামনে খোলা থাকবে কূটনীতির পথ। কিন্তু ইরান বলছে, তারা এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না; কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না; কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই বার্তা বিনিময় করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি তাদের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘনের বিষয়টির সুরাহা না করে, তবে আলোচনা পুনরায় শুরু করা সম্ভব নয়। আরাঘচির উদ্ধৃতি দিয়ে ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনা পুনরায় শুরুর উপায় খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন; তবে তেহরান মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত লঙ্ঘনের বিষয়গুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা শুরু করা যাবে না।
তিনি বলেন, ‘আলোচনার পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা চলছে।’ তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লঙ্ঘনের বিষয়গুলো সংশোধন না করা পর্যন্ত আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা নেই। আরাগচি জানান, ওমানের সঙ্গে ইরানের একটি সমঝোতা হলেও তাতে হরমুজ খোলার কোনো সম্ভাবনা নেই। ইরানের বন্দরগুলো মার্কিন অবরোধে থাকার প্রেক্ষাপটে তিনি এসব মন্তব্য করলেন।
ইয়েমেনের আল-মাখা বন্দরে হুথি হামলায় নিহত ৭
আল জাজিরা জানায়, ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্রের বলেছেন, রোববার সকালে ইয়েমেনের আল-মাখা বন্দরে হুথিদের বিমান হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন। বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এ হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরান সমর্থিত হুথিরা। তাদের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সৌদি আরবের সেনা ও অস্ত্রের মজুদাগার।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে পেজেশকিয়ানের বৈঠক
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তার দায়িত্ব পালনের তৃতীয় বছরে পদার্পণ করায় আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রেস টিভি জানিয়েছে, তারা দেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, যার মধ্যে রয়েছে জনগণের জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয়তা, চলমান আগ্রাসী যুদ্ধ, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, সামরিক অগ্রগতি এবং বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আল জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন, বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও বক্তব্যের জবাবে তেহরান অত্যন্ত সতর্ক ও বাস্তববাদী অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে যে কোনো কূটনৈতিক আলোচনার পুরো প্রক্রিয়াটিই এখন অবিশ্বাসের কালো মেঘে ঢাকা পড়েছে। এর মূল কারণ হলো মার্কিনিদের সঙ্গে আলোচনার মাঝপথেই বেশ কয়েকবার ইরানিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শনিবার চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিহীনতার তীব্র সমালোচনা করেন। পাশাপাশি, আরাগচিও স্পষ্টভাবে জানান, ক্ষতিপূরণ প্রদান অপরিহার্য। বর্তমান পরিস্থিতি এবং মাস্কাট ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনাকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা পুনরায় শুরুর পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বাস্তবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতপার্থক্যের অনেকগুলো বিষয় থাকায় পরিস্থিতিটি এখনো অনিশ্চিত।











































